স্নান করার কথা ভাবলেই বহু মানুষের মনে ভয় কাজ করে। অনেকেই এটাকে নিছক আলস্য বা আরামপ্রিয়তার ফল বলে ধরে নেন। কিন্তু আয়ুর্বেদের দৃষ্টিতে বিষয়টি শুধু মানসিক বা শারীরিক অলসতা নয়, বরং শরীরের একটি স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া।

আয়ুর্বেদ অনুযায়ী, শীতকালে শরীরে বাত ও কফ দোষের প্রভাব বেড়ে যায়। এই দুই দোষ শরীরের শক্তি, তাপমাত্রা ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা নিয়ন্ত্রণ করে। শীতের সময় এরা সক্রিয় হয়ে উঠলে ঠান্ডা জলের সংস্পর্শে শরীর হঠাৎ অস্বস্তি অনুভব করে। সেই কারণেই অনেকেই শীতে স্নান করতে ভয় পান বা তা এড়িয়ে যান। ঠান্ডা জল শরীরের স্বাভাবিক উষ্ণতা দ্রুত কমিয়ে দেয়, যা তাপের ভারসাম্যের জন্য ক্ষতিকর।

আয়ুষ চিকিৎসক ডা. রাজকুমার জানান, শরীরের তাপমাত্রা হঠাৎ কমে গেলে দুর্বলতা, সর্দি, জ্বর, কাশি ও নানা অসুখের ঝুঁকি বেড়ে যায়। তাই আয়ুর্বেদে শীতকালে উষ্ণ গরম জলে স্নান করার পরামর্শ দেওয়া হয়। উষ্ণ গরম জল শরীরকে ঠান্ডা থেকে রক্ষা করে। এবং বাত ও কফ দোষকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে।

শুধু জল নয়, স্নানের সঠিক সময়ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আয়ুর্বেদ বিশেষজ্ঞদের মতে, ভোরে উঠে হালকা উষ্ণ গরম জলে স্নান করা সবচেয়ে উপকারী। এতে শরীর উষ্ণ থাকে, রক্ত সঞ্চালন ভাল হয় এবং শক্তি বৃদ্ধি পায়। পাশাপাশি শীতকালে স্নানের আগে ও পরে কিছু সতর্কতা মানা জরুরি। স্নানের আগে হালকা ব্যায়াম বা স্ট্রেচিং শরীরের উষ্ণতা ধরে রাখতে সাহায্য করে। স্নানের পর শরীর ভালভাবে মুছে গরম কাপড় পরা উচিত, যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী করতে সহায়ক।

শীতের সময় ঠান্ডা জলে স্নান করা বা স্নানের পর শরীর গরম না রাখলে বাত ও কফ দোষ বেড়ে গিয়ে নানা স্বাস্থ্য সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে। তাই শীতে স্নান করতে অনীহা আসলে তা শরীরের দেওয়া একটি সতর্ক সঙ্কেত হিসাবেই দেখা উচিত। আয়ুর্বেদ মতে, শরীরের এই স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়াগুলিকে বোঝা ও সম্মান করা জরুরি। উষ্ণ গরম জলে স্নান, সঠিক সময় নির্বাচন এবং স্নানের পর শরীর উষ্ণ রাখা। এই অভ্যাসগুলি শুধু ঠান্ডা থেকে রক্ষা করে না, শরীরকে রাখে সতেজ, কর্মক্ষম ও মানসিকভাবে চাঙ্গা।

হালকা গরম জলে সঠিক সময়ে স্নান করলে শরীর থাকে উষ্ণ ও সক্রিয়, মন থাকে সতেজ, আর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও জোরদার হয়। শীতের স্নান তখন আর ভয়ের কারণ থাকে না, বরং হয়ে ওঠে শরীর ও মনের জন্য আরামদায়ক এক অভ্যাস।