শীত পড়তেই অনেকের হাত ও পায়ের নখ নীলচে বা বেগুনি রঙের হয়ে যেতে দেখা যায়। ঠান্ডা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই সমস্যা বেশি চোখে পড়ে। অনেকেই বিষয়টিকে তেমন গুরুত্ব দেন না। তবে চিকিৎসকদের মতে, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এটি স্বাভাবিক হলেও কিছু পরিস্থিতিতে নখ নীল হওয়া শরীরের ভেতরের গুরুতর সমস্যার লক্ষণ হতে পারে। তাই নখের রঙে পরিবর্তন হলে অবহেলা করা উচিত নয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শীতকালে শরীর নিজের তাপমাত্রা ঠিক রাখতে রক্ত চলাচলের ধরন বদলে ফেলে। হার্ট ও মস্তিষ্কের মতো গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গকে গরম রাখতে শরীর বেশি রক্ত সেখানে পাঠায়। এর ফলে হাত ও পায়ের আঙুলে রক্ত পৌঁছতে দেরি হয়। এই অবস্থায় রক্তনালীগুলো সঙ্কুচিত হয়ে যায়, যাকে চিকিৎসার ভাষায় বলা হয় ভাসোকনস্ট্রিকশন। ফলে নখের নীচে অক্সিজেনযুক্ত রক্ত কম পৌঁছয় এবং নখ নীল বা বেগুনি দেখাতে শুরু করে।
চিকিৎসকদের বক্তব্য, যদি ঠান্ডা থেকে গরম জায়গায় গেলে বা হাত-পা গরম করলে নখের রং আবার স্বাভাবিক হয়ে যায়, তাহলে সাধারণত চিন্তার কিছু নেই। এটি শীতজনিত সাময়িক সমস্যা বলেই ধরা হয়।
কখন সতর্ক হওয়া জরুরি? সব ক্ষেত্রে নখ নীল হওয়াকে হালকাভাবে নেওয়া উচিত নয়। চিকিৎসকরা বলছেন, নিচের লক্ষণগুলির কোনওটি দেখা গেলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া দরকার। যেমন-
* দীর্ঘ সময় ধরে নখ নীলই থেকে যাচ্ছে
* নখ নীল হওয়ার সঙ্গে ব্যথা, অসাড়তা বা ঝিনঝিন ভাব হচ্ছে
* আঙুল বা নখ ফুলে যাচ্ছে কিংবা ক্ষত তৈরি হচ্ছে
* নখ নীল হওয়ার সঙ্গে শ্বাসকষ্ট, মাথা ঘোরা বা বুক ধড়ফড় হচ্ছে
চিকিৎসকদের মতে, নখ নীল হওয়ার কারণ শুধু ঠান্ডা নয়, ডায়াবেটিস, হৃদরোগ, ফুসফুসের সমস্যা, রক্তনালীর অসুখ বা অতিরিক্ত ধূমপানের কারণেও নখের রং বদলাতে পারে। এক্ষেত্রে শীত না থাকলেও একই সমস্যা দেখা দিতে পারে।
কীভাবে সতর্ক থাকবেন? বিশেষজ্ঞরা শীতে হাত-পা গরম রাখতে গ্লাভস ও মোজা ব্যবহার করার পরামর্শ দেন। পাশাপাশি ধূমপান এড়িয়ে চলা, নিয়মিত হালকা ব্যায়াম করা এবং দীর্ঘদিন ধরে সমস্যা থাকলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।
