চোখের নিচে ডার্ক সার্কেল মানেই রাত জেগে থাকা, এমন ধারণা বহুদিনের। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিষয়টা এতটা সহজ নয়। ঘুমের অভাব ছাড়াও আরও একাধিক কারণে চোখের নিচে কালো দাগ হতে পারে। তাই সমস্যা বুঝে তবেই তার সমাধান করা জরুরি।
১. বংশগতি: ডার্ক সার্কেলের সবচেয়ে সাধারণ কারণ হল বংশগতি। যদি আপনার পরিবারের অন্যদের এই সমস্যা থাকে, তবে আপনারও এটি হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। এক্ষেত্রে ছোটবেলা থেকেই চোখের নিচে কালচে ভাব দেখা দিতে পারে।
২. বার্ধক্য ও পাতলা ত্বক: বয়সের সঙ্গে সঙ্গে আমাদের ত্বক কোলাজেন হারায় এবং পাতলা হয়ে যায়। চোখের নিচের ত্বক শরীরের সবচেয়ে পাতলা অংশ হওয়ায় এর নিচের রক্তনালীগুলো সহজে দৃশ্যমান হয়, যা কালচে আভা তৈরি করে।
৩. অ্যালার্জি ও চোখ ঘষা: অ্যালার্জির কারণে চোখে চুলকানি হলে আমরা প্রায়ই চোখ ঘষি। এই ঘর্ষণের ফলে চোখের নিচের সূক্ষ্ম রক্তনালী ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং হাইপারপিগমেন্টেশন বা কালচে দাগ তৈরি করে। একে চিকিৎসা বিজ্ঞানে 'অ্যালার্জিক শাইনার' বলা হয়।
৪. শরীরে জলশূন্যতা: শরীরে জলের অভাব হলে চোখের নিচের অংশ বসে যায় এবং ফ্যাকাসে দেখায়। ফলে নিচের হাড়ের গঠন স্পষ্ট হয়ে ওঠে এবং ছায়ার মতো কালো দাগ তৈরি হয়।
৫. অতিরিক্ত রোদে থাকা: সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি ত্বকে মেলানিন উৎপাদন বাড়িয়ে দেয়। চোখের চারপাশের ত্বক সংবেদনশীল হওয়ায় রোদ থেকে সুরক্ষায় সানস্ক্রিন বা সানগ্লাস ব্যবহার না করলে ডার্ক সার্কেল স্থায়ী হতে পারে।
৬. লাইফস্টাইল ও শারীরিক সমস্যা: স্ক্রিন টাইম বৃদ্ধি, অতিরিক্ত ধূমপান, মদ্যপান এবং আয়রনের অভাব বা অ্যানিমিয়ার কারণেও চোখের নিচে কালো দাগ পড়ে। রক্তে অক্সিজেনের অভাব হলে ত্বক কালচে দেখায়।
আপনার ডার্ক সার্কেলের কারণ কী তা বুঝতে একটি সহজ পরীক্ষা করতে পারেন। চোখের নিচের ত্বকটি হালকা করে টেনে ধরুন। যদি টানার পর রঙ হালকা হয়ে যায়, তবে এটি সম্ভবত ত্বক পাতলা হওয়া বা রক্তনালী দৃশ্যমান হওয়ার কারণে। আর যদি টানার পরও রং একই থাকে, তবে বুঝবেন এটি হাইপারপিগমেন্টেশন বা পিগমেন্টের আধিক্যের কারণে হয়েছে। আবার চোখের নিচের অংশটি যদি গর্তের মতো দেখায় এবং আলোর বিপরীতে দাঁড়ালে ছায়া পড়ে, তবে সেটি মূলত চেহারার গঠন বা বয়সের কারণে কমে যাওয়ার ফল।
চোখের কালির কারণভেদে সমাধান ভিন্ন হয়। পিগমেন্টেশনের জন্য ভিটামিন-সি বা রেটিনলযুক্ত ক্রিম কার্যকর। ফোলাভাব কমাতে কোল্ড কম্প্রেস বা ক্যাফেইন সমৃদ্ধ সিরাম ব্যবহার করা যায়। তবে সবকিছুর ঊর্ধ্বে প্রচুর জল পান, রোদে সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা এবং পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেওয়া জরুরি। যদি সমস্যাটি গুরুতর হয়, তবে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শে লেজার বা ফিলারের সাহায্য নেওয়া যেতে পারে।















