আজকাল ওয়েবডেস্ক: চলতি মাসের ১০ তারিখ হায়দরাবাদে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি জনসাধারণের উদ্দেশ্যে দেশের তেল সঙ্কটের কথা তুলে ধরেছিলেন। তিনি সাধারণকে বাড়ি থেকে কাজ করতে অনুরোধ করেছেন। এর ফলে পেট্রল কম খরচ হবে বলেও জানিয়েছেন। পশ্চিম এশিয়ার তেলের সমস্যায় দেশের পেট্রল খরচ কমানোর জন্য এই পদক্ষেপ গুরুত্বপূর্ণ বলেও আখ্যা দিয়েছেন তিনি।
এই ঘোষনার কয়েকদিন পরে, লিঙ্কডইনে দিল্লির একটি কোম্পানির সিইও একটি পোস্ট করেন। সেই পোস্টে তিনি লিখছেন, “প্রধানমন্ত্রী মোদি দেশকে বাড়ি থেকে কাজ করার পরামর্শ দিয়েছেন। সেই সুযোগ নিয়ে আমার এক ইন্টার্ন জানিয়েছে সে অফিসে এসে কাজ করবে না। অথচ সে থাকে মাত্র ৫০০ মিটার দূরে। এবং সে জোর গলায় বলছে আমি পেট্রলের খরচ কমাচ্ছি। সাশ্রয় করছি।”
এরপর তিনি মজা করে লেখেন, “দেশের সার্বিক উন্নতি কামনায় আমরা কার্বন নিঃসরণ কমাচ্ছি। আর আমার ইন্টার্ন শুধু নিজের ফুল প্যান্ট পরার কষ্ট কমাচ্ছে মাত্র।” তিনি আরও লেখেন, “কারও যাতায়াতের পথ যদি তাঁর সবচেয়ে প্রিয় গানের সময়ের চেয়ে কম হয়, তাহলে পেট্রল বা টাকা কিছু নয়, আসলে আপনি নিজের অলসতাকেই বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টা করছেন।”
তিনি নিজের পোস্টে সাধারণের উদ্দেশ্যে লেখেন, “পেট্রল খরচ করতে হবে না। সাইকেল ব্যবহার করুন। আর ৫০ মিটারের মধ্যে কর্মক্ষেত্র হলে, হেঁটেই চলে যাতায়াত করুন।” তাঁর এই রসিকতা সহজেই মানুষের নজর কেড়েছে। দ্রুত গতিতে পোস্টটি ভাইরাল হয়েছে। আর ভাইরাল হতেই শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক।
বহু ব্যবহারকারী সিইও-র সঙ্গে সহমত হতে পারেননি। তাঁরা ইন্টার্নকে সমর্থন করেছেন। একজন লিখেছেন, “কখনও কখনও শুধু দেশের সার্বিক সঙ্কট মোকাবিলার জন্য নয়, বরং নিজের মানসিক শান্তি যাতে বজায় থাকে অথচ কাজে বিঘ্ন না ঘটে সেজন্যও বাড়ি থেকে কাজ খুব জরুরি। কর্মী নিজের মানসিক স্থিতাবস্থার জন্য যদি বাড়ি থেকে কাজের জন্য আবেদন করে থাকে, তাহলে অবশ্যই সেই অনুমতি দেওয়া জরুরি।” তাঁকে সমর্থন করেছেন বহু মানুষ। তাঁদের কথায়, “হ্যাঁ, মন ভাল থাকলে কাজের গতি বাড়ে, সৃজনশীলতাও বাড়ে।” কেউ কেউ লিখছেন, “বিষয়টি শুধু প্যান্ট পরা না পরায় আটকে নেই। আমার মনে হয় আপনার ইন্টার্নের সঙ্গে আপনার মুখোমুখি কথা বলা উচিৎ। এটুকু রাস্তা যদি সে যাতায়াত না করতে চায় তাহলে সত্যিই আপনাদের অফিসের কাজের পরিসর নিয়ে আপনাদের বিশ্লেষণ করা জরুরি।”
একজন জিজ্ঞেশ করেছেন, “যদি আপনার ইন্টার্ন অফিসে এসে কাজ করেন, বা বাড়ি বসে কাজ করেন, তাতে কী এসে যাবে? আপনার কাজটা হওয়া নিয়েই তো কথা! সেটা তো আটকাচ্ছে না।” একজন লিখছেন, “৫০০ মিটার দূরে কেউ থাকছেন নাকি ৫০ কিলোমিটার দূরে সেটা তো গুরুত্বপূর্ণই নয়, অফিস পলিসি সকলের জন্যই একই থাকার কথা।”
অপরজন লিখছেন, “তাতে সমস্যাটা কোথায়? পোস্টটা কেমন মনে হচ্ছে জানেন! যেন কারও পেটে মাথাব্যথা হচ্ছে, আর কিডনিতে হার্ট অ্যাটাক হয়েছে। পোস্টটার কোনও মাথামুণ্ডু নেই।”















