দেখতে ছোট, আচরণে চুপচাপ, কিন্তু মুহূর্তের মধ্যে প্রাণঘাতী আঘাত হানতে সক্ষম। ‘স-স্কেলড ভাইপার’ বা করাত-আঁশযুক্ত ভাইপারকে বিশ্বের অন্যতম বিপজ্জনক সাপ হিসেবে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।
2
10
আকারে খুব বড় না হলেও এর বিষ এতটাই শক্তিশালী যে সময়মতো চিকিৎসা না পেলে মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। বিশেষ করে ভারতের মতো উষ্ণ ও শুষ্ক অঞ্চলে এই সাপের কামড় বহু মানুষের প্রাণ কেড়ে নেয় প্রতি বছর।
3
10
স-স্কেলড ভাইপারের সবচেয়ে ভয়ঙ্কর দিক হল এর বিষের প্রভাব। এই সাপের বিষ মানুষের শরীরের রক্ত জমাট বাঁধার স্বাভাবিক প্রক্রিয়াকে সম্পূর্ণভাবে নষ্ট করে দেয়। ফলে শরীরের ভিতরে ও বাইরে অনিয়ন্ত্রিত রক্তক্ষরণ শুরু হতে পারে।
4
10
অনেক ক্ষেত্রে কিডনি বিকল হয়ে যাওয়ার মতো গুরুতর সমস্যাও দেখা দেয়। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, দ্রুত অ্যান্টিভেনম এবং চিকিৎসা না পেলে পরিস্থিতি কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে।
5
10
বিশেষজ্ঞদের মতে, স-স্কেলড ভাইপার সাধারণত আকারে ছোট হওয়ায় অনেক সময় সহজে চোখে পড়ে না। শুকনো পাতা, বালুময় জমি কিংবা পাথুরে এলাকায় এটি এমনভাবে লুকিয়ে থাকে যে মানুষ বুঝতেই পারেন না কতটা কাছে বিপদ অপেক্ষা করছে। আচমকা পায়ের চাপ পড়লে বা বিরক্ত করলে মুহূর্তের মধ্যে আক্রমণ করে এই সাপ। আর একবার কামড় বসালে তার বিষ শরীরে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।
6
10
এই সাপের আরেকটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য হল এর প্রতিরক্ষামূলক আচরণ। বিপদের আশঙ্কা বুঝলে শরীর কুণ্ডলী পাকিয়ে আঁশ ঘষে এক ধরনের কর্কশ শব্দ তৈরি করে। সেই শব্দ থেকেই ‘স-স্কেলড’ নামটির উৎপত্তি। তবে অনেক সময় মানুষ সেই সতর্ক সংকেত বুঝে ওঠার আগেই সাপটি আক্রমণ করে ফেলে।
7
10
ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা এবং আফ্রিকার কিছু অঞ্চলে এই সাপ বেশি দেখা যায়। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে কৃষিকাজের সময় বা রাতে হাঁটার সময় মানুষ প্রায়ই এর শিকার হন। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গ্রামের বহু এলাকায় দ্রুত চিকিৎসা বা অ্যান্টিভেনম না পাওয়ায় মৃত্যুর ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়।
8
10
সাপ বিশেষজ্ঞদের মতে, স-স্কেলড ভাইপারকে হালকাভাবে নেওয়ার কোনও সুযোগ নেই। এটি আকারে ছোট হলেও অত্যন্ত আক্রমণাত্মক এবং দ্রুতগতির। অনেক সময় অন্য বিষধর সাপের তুলনায় এরা বেশি উত্তেজিত হয়ে ওঠে এবং বিনা উসকানিতেও আক্রমণ করতে পারে।
9
10
চিকিৎসকদের পরামর্শ, সাপের কামড় লাগলে কোনওভাবেই ঘরোয়া চিকিৎসা বা ওঝার উপর নির্ভর করা উচিত নয়। আক্রান্ত ব্যক্তিকে যত দ্রুত সম্ভব হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে। আক্রান্ত অঙ্গ নাড়াচাড়া কম করা এবং রোগীকে শান্ত রাখা জরুরি। কারণ শরীরে নড়াচড়া বাড়লে বিষ আরও দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে।
10
10
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, প্রতি বছর বিশ্বজুড়ে লক্ষাধিক মানুষ সাপের কামড়ে আক্রান্ত হন, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ঘটনা ঘটে স-স্কেলড ভাইপারের কামড়ে। তাই সচেতনতা, দ্রুত চিকিৎসা এবং অ্যান্টিভেনমের সহজলভ্যতা বাড়ানোই এই বিপজ্জনক সাপের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের প্রধান অস্ত্র বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।