শরীর ছোট ছোট লক্ষণের মাধ্যমেই অনেক সময় বড় রোগের আগাম ইঙ্গিত দেয়। কিন্তু বেশিরভাগ মানুষই সেই লক্ষণগুলোকে গুরুত্ব দেন না। বিশেষ করে প্রস্রাব সংক্রান্ত কিছু সমস্যা অনেকেই সাধারণ ইনফেকশন বা সাময়িক সমস্যা ভেবে এড়িয়ে যান। চিকিৎসকদের মতে, এই ভুলই ভবিষ্যতে বড় বিপদের কারণ হতে পারে। কারণ কিছু ইউরিনারি সমস্যা কিডনি, ব্লাডার বা প্রস্টেট ক্যানসারের মতো গুরুতর রোগের লক্ষণও হতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রস্রাবে রক্ত দেখা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তাগুলোর একটি। অনেক সময় প্রস্রাবের রং হালকা গোলাপি, লালচে বা বাদামি হয়ে যেতে পারে। কারও আবার ব্যথা হয় না বলেই বিষয়টি গুরুত্ব পায় না। কিন্তু এই লক্ষণ কখনও অবহেলা করা উচিত নয়। কারণ এটি ব্লাডার বা কিডনির সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে।
এছাড়াও কিছু সাধারণ লক্ষণ রয়েছে, যেগুলোকে মানুষ প্রায়ই হালকাভাবে নেয়। যেমন বারবার প্রস্রাব পাওয়া, রাতে ঘন ঘন বাথরুমে যেতে হওয়া, প্রস্রাবের সময় জ্বালা বা ব্যথা, হঠাৎ খুব বেশি প্রস্রাবের চাপ অনুভব করা, প্রস্রাব পুরোপুরি না হওয়া, প্রস্রাবের গতি কমে যাওয়া, তলপেটে অস্বস্তি বা চাপ অনুভব করা, চিকিৎসকদের মতে, এই উপসর্গগুলো সবসময় ক্যানসারের জন্য হয় না। অনেক সময় ইউরিন ইনফেকশন, ডায়াবেটিস বা অন্য কারণেও হতে পারে। তবে সমস্যা যদি বারবার হয় বা দীর্ঘদিন থাকে, তাহলে অবশ্যই চিকিৎসকের কাছে যাওয়া উচিত।
বিশেষ করে পুরুষদের ক্ষেত্রে বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রস্টেট ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ে। প্রস্রাব শুরু করতে দেরি হওয়া, দুর্বল ইউরিন ফ্লো বা প্রস্রাবের পরেও ব্লাডার পুরো খালি হয়নি বলে মনে হওয়া— এসব লক্ষণকে গুরুত্ব দেওয়া জরুরি।
অন্যদিকে ধূমপান, কম জল খাওয়া, অতিরিক্ত প্রসেসড খাবার খাওয়া, দূষণের মধ্যে কাজ করা বা দীর্ঘদিন রাসায়নিকের সংস্পর্শে থাকলেও ব্লাডার ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়তে পারে।
চিকিৎসকদের পরামর্শ, শরীরের কোনও পরিবর্তনকে ছোট ভেবে এড়িয়ে যাবেন না। বিশেষ করে প্রস্রাব সংক্রান্ত সমস্যা কয়েকদিনের বেশি থাকলে দ্রুত পরীক্ষা করান। কারণ সময়মতো রোগ ধরা পড়লে চিকিৎসা অনেক সহজ হয় এবং সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনাও অনেক বেড়ে যায়।















