মধ্যবিত্ত ঘরের গৃহবধূই হন কিংবা ফ্যাশনিস্তা সেলিব্রিটি, আজকাল ডায়েট নিয়ে নাড়াঘাঁটা করেন সকলেই। ওজন কমানোর জন্য গালভরা নামের হরেক ডায়েটের রয়েছে নানা পদ্ধতি রয়েছে। কেউ শুধু প্রোটিন জাতীয় খাবার খেয়ে ডায়েট করছেন, কেউ আবার ফাইবার বেশি খাচ্ছেন, কারওর খাদ্যতালিকা থেকে পুরোপুরি বাদ কার্বোহাইড্রেট। তারই মধ্যে বিগত কয়েক বছরে আলোচনায় উঠে এসেছে মোনো ডায়েট। মোনো অর্থাৎ একই রকম খাবার খেয়ে দিনযাপন। একটানা কয়েক দিন বা এক সপ্তাহ অথবা তারও বেশি সময় একই রকম খাবার খেয়ে ওজন কমিয়েছেন ভিক্টোরিয়া বেকহ্যাম থেকে অনুষ্কা শর্মার মতো তারকারা। ইদানীং আমজনতার মধ্যেও জনপ্রিয় হয়ে উঠছে এই খাদ্যাভাস। ঠিক কী এই ডায়েট? কেনই বা মোনো ডায়েটের প্রতি ঝোঁক বাড়ছে? টানা এই ডায়েটে স্বাস্থ্যের ঝুঁকি কী হতে পারে? বিশদে জানালেন বিশিষ্ট পুষ্টিবিদ অগ্নিমিত্রা মুখোপাধ্যায়।


মোনো ডায়েট হল এক ধরনের ফ্যাড ডায়েট। ওজন কমানোর জন্য সারা দিন একই খাবার বা খাবারের পাঁচটি শ্রেণির যে কোনও একটি গ্রুপের খাবার খাওয়াই হল মোনো ডায়েট। একই বা এক ধরনের খাবার বলতে কেউ হয়তো শুধু আলু কিংবা আপেলই খান, আবার কারওর কেবল ফল বা মাংসই রোজের খাবার। 

ঝোঁক কেন বেশি

শুধুমাত্র একটি বা একই ধরনের খাবার খাওয়ায় শরীরে কী প্রভাব পড়তে পারে তা সকলেই জানেন। তবুও কেন এত চর্চায় উঠে আসছে মোনো ডায়েট? আসলে অনেকের কাছেই ডায়েট মানে বিশাল ঝক্কি।  রীতিমতো তালিকা ধরে, নিয়ম মেনে প্রতিবেলায় খাবার খাওয়া। মনো ডায়েটে এসবের বালাই নেই। এই ডায়েট করতে গেলে খুব একটা খাটতে হয় না৷ এককথায় খুব সহজ ডায়েট। মোনো ডায়েটে যেহেতু একই বা এক ধরনের খাবার খাওয়া হয়, তাই প্রতিদিন কী খাব, ক্যালোরির হিসেবনিকেশ-এসবের চিন্তা মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলা সম্ভব। আর আজকাল সবকিছুতেই যেভাবে শর্টকাট খোঁজার ঝোঁক দেখা যায়। তাতে খুব তাড়াতাড়ি ওজন কমানোর লক্ষ্যেই অনেকেই এই ডায়েট পছন্দ করছেন। বিশেষত তরুণ প্রজন্মের মধ্যে মনোডায়েট করার প্রবণতা বেশি। 

বিপদের আশঙ্কা

দীর্ঘদিন মোনো ডায়েট করলে শরীরে পুষ্টির ঘাটতি, গ্যাস্ট্রিক সমস্যা হওয়ার ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি থাকে। এছাড়াও চুল পড়া, দুর্বলতা, ক্লান্তি, মাসল লস, কোষ্ঠকাঠিন্য, সোডিয়াম-পটাসিয়ামের ঘাটতি, মাথাব্যথা, মাথা ঘোরা, মেটাবলিক সমস্যা হতে পারে, ত্বকে প্রভাব পড়ে, । ব্লাড সুগার বেড়ে যাওয়া, লিপিড প্রোফাইলের ভারসাম্য নষ্ট হওয়া, গলস্টোন হওয়ার আশঙ্কা থাকে। মোনো ডায়েট একবার ছেড়ে দিলেই ফের ওজন বেড়ে যেতে পারে। এতে অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভাসের প্রবণতাও তৈরি হয়। 

কতদিন মেনে চলা যায় 

সাধারণত পুষ্টিবিদেরা এই ডায়েট করার পরামর্শ দেন না। তবে যদি কারওর পেশাগত বা অন্য প্রয়োজনে খুব অল্প সময়ের মধ্যে ওজন কমাতে হয় তাহলে ৩-৫ দিন কিংবা এক থেকে দেড় সপ্তাহ পর্যন্ত মেনে চলতে পারেন। তার বেশি নয়। সঙ্গে শরীরে জলের ঘাটতির দিকে দিতে হবে। আর পুষ্টিবিদ অথবা চিকিৎকসের পরামর্শ না নিয়ে কখনওই এই ডায়েটে পা দেবেন না। 

কারা দূরে থাকবেন

আসলে সারাদিন একই খাবার খেকে ক্যালোরি ঘাটতি হয়। আর পর্যাপ্ত ক্যালোরি গ্রহণ না করলে ওজন কমে যাওয়াই স্বাভাবিক। তাই মোনো ডায়েটের মাধ্যমে একবার ওজন কমতে শুরু করলে অনেকেই ভুলে যান যে এটি দীর্ঘদিন করা ঠিক নয়। আসলে কোনও কিছুরই শর্টকাট হয় না।যারা জিমে খুব বেশি ওয়েট ট্রেনিং কিংবা নিয়মিত হার্ড এক্সারসাইজ করেন তাদের মোনো ডায়েট করা উচিত নয়। এছাড়া হাইপারটেনশন, কিডনির সমস্যা, ডায়াবেটিসের মতো জটিল অসুখ থাকলে মোনো ডায়েট থেকে দূরে থাকুন।