বাড়ি হোক বা অফিস, গরমে এসি ব্যবহার করেন বেশিরভাগ মানুষ। কিন্তু অনেকেরই অভিযোগ থাকে, এসি চালালে মাথাব্যথা, গলা শুকিয়ে যাওয়া বা কাশি বেড়ে যায়। ফুসফুস বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এসি নিজে থেকে অসুখ তৈরি না করলেও ভুলভাবে ব্যবহার করলে তা শরীরের জন্য সমস্যা তৈরি করতে পারে। এই কারণেই চিকিৎসকরা এসি ব্যবহারের কিছু গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতার কথা বলেন। 


দীর্ঘ সময় এসির ঠান্ডা ও শুকনো বাতাসে থাকলে শ্বাসযন্ত্রের উপর প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে যাদের আগে থেকেই অ্যালার্জি, অ্যাজমা বা শ্বাসকষ্টের সমস্যা রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি বেশি।


বিশেষজ্ঞেরা বলেন, এসির ফিল্টার নিয়মিত পরিষ্কার করা না হলে সেখানে ধুলো, ব্যাকটেরিয়া ও ছত্রাক জমে যায়। পরে এসি চালু হলে সেই দূষিত কণাগুলো বাতাসের সঙ্গে ঘরে ছড়িয়ে পড়ে। ফলে হাঁচি, কাশি, নাক বন্ধ হওয়া বা শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। অনেক সময় চোখ জ্বালা করা বা ত্বক অতিরিক্ত শুকিয়ে যাওয়ার সমস্যাও দেখা যায়।

এছাড়া এসি বাতাসের আর্দ্রতা কমিয়ে দেয়। ফলে ঘরের বাতাস অনেকটাই শুকনো হয়ে যায়। এই শুকনো বাতাস নাক ও গলার ভেতরের অংশকে শুকিয়ে দেয়, যার ফলে শরীরের স্বাভাবিক প্রতিরোধ ক্ষমতা কিছুটা কমে যেতে পারে। এর ফলে ঠান্ডা লাগা, গলা ব্যথা বা দীর্ঘস্থায়ী কাশির সমস্যা দেখা দিতে পারে।

আরেকটি বড় সমস্যা হল, বন্ধ ঘরে দীর্ঘ সময় থাকা। অনেক সময় এসি চালু থাকলে জানালা-দরজা বন্ধ থাকে। এতে ঘরের ভেতরের বাতাস ঠিকভাবে বদলায় না। ফলে মাথাব্যথা, ক্লান্তি, মনোযোগ কমে যাওয়া বা অস্বস্তি অনুভব হতে পারে।

তবে চিকিৎসকদের মতে, কয়েকটি সহজ নিয়ম মেনে চললে এসি ব্যবহার পুরোপুরি নিরাপদ করা সম্ভব। যেমন এসি ফিল্টার নিয়মিত পরিষ্কার করা, বছরে অন্তত একবার সার্ভিস করানো এবং ঘরের তাপমাত্রা ২৪ থেকে ২৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে রাখা। এছাড়া মাঝে মাঝে জানালা খুলে ঘরে তাজা বাতাস ঢোকানোও খুব জরুরি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এসি ব্যবহার করা ভুল নয়। কিন্তু পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও সঠিক ব্যবহার না হলে তা শরীরের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। তাই গরমে আরাম পেতে এসি ব্যবহার করুন, তবে স্বাস্থ্য সুরক্ষার দিকটিও সমানভাবে মাথায় রাখুন।