আজকাল ওয়েব ডেস্ক: ভাদ্র মাসের অমাবস্যা তিথিতে প্রতি বছর কৌশিকী অমাবস্যা পালিত হয়। দেবী কৌশিকীর নামে এই দিনটি কৌশিকী অমাবস্যা নামে পরিচিত। আজই ২ সেপ্টেম্বর সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। সারা বছরের অন্য সব অমাবস্যার থেকে কৌশিকী অমাবস্যা বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে তন্ত্র সাধকদের কাছে কৌশিকী অমাবস্যার মাহাত্ম্য অপরিসীম। 

তন্ত্র ও শাস্ত্র মতে, ভাদ্র মাসের এই তিথিতে সাধনা করলে সুফল পাওয়া যায়। কথিত রয়েছে, আজকের দিনে এক বিশেষ মুহূর্তে স্বর্গ ও নরক দুইয়ের দরজা মুহূর্তের জন্য দরজা খুলে যায়। যারা সিদ্ধি লাভ করতে চান তাঁদের জন্য আজকের দিনটি ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ। শাস্ত্র মতে মনে করা হয়, এই দিনে আদ্যাশক্তি মহামায়ার আরাধনা করলে দেবীর অশেষ কৃপা লাভ করা যায়। কৌশিকী অমাবস্যাতেই তারাপীঠে সাধক বামাক্ষ্যাপা সিদ্ধিলাভ করেছিলেন। সেই কারণে এই তিথিতে তারাপীঠে সারারাত দেবী তারার বিশেষ পুজো করা হয়। আজ সোমবার ভোর ৫টা ৫ মিনিটে অমাবস্যা পড়ছে। আগামিকাল ভোর ৬টা ২৯ মিনিটে ছেড়ে যাবে অমাবস্যা।

প্রতি বছর তারাপীঠে কৌশিকি অমাবস্যায় প্রচুর ভক্তের সমাগম হয়। কথিত রয়েছে, দেবীর কৃপায় এই শুভ দিনে সকল মনস্কামনা পূরণ হয়। কিন্তু ভাদ্র মাসের অমাবস্যা তিথিকে কেন কৌশিকী অমাবস্যা বলা হয় জানেন?  কে এই দেবী কৌশিকী? শাস্ত্র অনুযায়ী, আজকের তিথিতেই দেবী কৌশিকী শুম্ভ ও নিশুম্ভ নামে দুই অসুরকে বধ করেছিলেন। এই দুই অসুরকে ব্রহ্মা বর দিয়েছিলেন যে একমাত্র কোনও অ-যোনি সম্ভূত নারী তাঁদের বধ করতে পারবেন। অর্থাৎ মাতৃগর্ভ থেকে জন্ম হয়নি, এমন কোনও নারীর হাতেই তাঁদের মৃত্যু হবে। তাই নিজেদের এক প্রকার অমর ভেবে স্বর্গ-মর্ত্য জুড়ে অত্যাচার শুরু করে শুম্ভ ও নিশুম্ভ নামে ওই দুই ভাই অসুর। তখন সব দেবতারা মিলে মহাদেবের কাছে এই সমস্যার সমাধানজানতে যান।

এদিকে দক্ষ যজ্ঞে স্বামী মহাদেবের অপমান সহ্য করতে না পেরে আগুনে প্রাণ বিসর্জন করেন সতী।  এরপর পার্বতী রূপে তিনি ফের জন্ম নেন। তখন তাঁর গায়ের রং ছিল ঘোর কালো। স্নেহের বশে শিব তাঁকে কালিকা বলেই ডাকতেন। শুম্ভ নিশুম্ভকে কী করে বধ করা যায়, সেই পরামর্শ করতে সব দেবতাদের সামনেই মহাদেব তাঁকে কালিকা বলে সম্বোধন করেন। সবার সামনে কালিকা বলায় অভিমানে মানস সরোবরের তীরে বসে তপস্যা শুরু করেন দেবী। তারপর সরোবরের জলে স্নান করে তাঁর গায়ের সব কালো কোষ ঝরে যায়। 

পূর্ণিমা চাঁদের মতো হয়ে ওঠে দেবীর গায়ের রং। তাঁর গায়ের এই ঝরে পড়া কালো কোষ থেকে সৃষ্টি হয় ঘোর কৃষ্ণবর্ণ অপরূপ সুন্দরী এক দেবীর। কোষ থেকে জন্ম হয় বলে তাঁর নাম কৌশিকী। আজ সেই তিথি, যে দিন এই দেবীর উৎপত্তি হয় এবং তিনি শুম্ভ ও নিশুম্ভকে বধ করেন। তাই এই অমাবস্যার নাম কৌশিকী অমাবস্যা। তন্ত্র মতে এই রাতকে তারা রাত্রিও বলা হয়।