ত্বক সুন্দর রাখতে বা চুলের যত্ন নিতে আজকাল প্রায় সকলেই নানা ধরনের বিউটি প্রোডাক্ট ব্যবহার করেন। ক্রিম, মেকআপ, হেয়ার ডাই বা নেল পলিশ-এসব এখন দৈনন্দিন জীবনের অংশ হয়ে উঠেছে। কিন্তু জানেন কি কিছু প্রসাধনীতে থাকা নির্দিষ্ট রাসায়নিক কিডনির ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘদিন ব্যবহার করলে কিডনির ক্ষতি করতে পারে নানা ধরনের বিউটি প্রোডাক্ট।
বিশেষজ্ঞরা বলেন, কিছু স্কিন-লাইটেনিং বা ফেয়ারনেস ক্রিমে পারদ নামের একটি ভারী ধাতু পাওয়া যায়। এই উপাদান ত্বক দ্রুত ফর্সা করতে সাহায্য করলেও তা শরীরের জন্য খুবই ক্ষতিকর। ত্বকের মাধ্যমে এই রাসায়নিক শরীরে ঢুকে ধীরে ধীরে কিডনিতে জমতে পারে। দীর্ঘদিন ব্যবহার করলে কিডনির স্বাভাবিক কাজ ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকি থাকে।
শুধু ফেয়ারনেস ক্রিম নয়, কিছু প্রসাধনীতে হাইড্রোকুইনোন নামের রাসায়নিকও ব্যবহার করা হয়। এটি ত্বকের দাগ কমাতে বা ফর্সা করতে ব্যবহৃত হয়। তবে বেশি পরিমাণে বা দীর্ঘদিন ব্যবহার করলে তা কিডনির ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে বলে মত বিশেষজ্ঞদের।
এছাড়া অনেক হেয়ার ডাইয়ে প্যারা-ফেনাইলেনডায়ামিন (পিপিডি) নামে একটি রাসায়নিক থাকে। কিছু ক্ষেত্রে এই উপাদান শরীরে বিষক্রিয়া তৈরি করতে পারে এবং গুরুতর পরিস্থিতিতে কিডনির ক্ষতির কারণও হতে পারে।
চিকিৎসকদের মতে, অনেক সময় মানুষ ভাবেন প্রসাধনী শুধু ত্বকের ওপরেই কাজ করে। কিন্তু বাস্তবে অনেক রাসায়নিক ত্বকের ভেতর দিয়ে শরীরে প্রবেশ করে রক্তের মাধ্যমে বিভিন্ন অঙ্গে পৌঁছে যায়। এর মধ্যে কিডনি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ, যেখানে এসব ক্ষতিকর উপাদান জমে সমস্যা তৈরি করতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলেন, প্রসাধনী ব্যবহার সম্পূর্ণ বন্ধ করার প্রয়োজন নেই। তবে সচেতনভাবে পণ্য বেছে নেওয়া জরুরি। কসমেটিক্স কেনার সময় উপাদানের তালিকা ভাল করে দেখা উচিত। অজানা বা অনিয়ন্ত্রিত ব্র্যান্ডের স্কিন-লাইটেনিং ক্রিম ব্যবহার না করাই ভাল। ত্বকের কোনও সমস্যা থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে পণ্য ব্যবহার করা সবচেয়ে নিরাপদ।
চিকিৎসকদের মতে, সৌন্দর্যের যত্ন নেওয়া ভালো, কিন্তু তা যেন শরীরের ক্ষতির কারণ না হয়। তাই কসমেটিকস ব্যবহারের ক্ষেত্রে সচেতন থাকলে কিডনির মতো গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গকে অনেকটাই সুরক্ষিত রাখা সম্ভব।
