মধ্য প্রাচ্যের সংঘাতের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে ভারতেও। যুদ্ধ পরিস্থিতিতে তেল ও রান্নার গ্যাসের সরবরাহের সমস্যা তৈরি হয়েছে। ফলে বিপাকে পড়েছে দেশের ছোট-বড় বহু রেস্তোরাঁ। পাল্লা দিয়েছে কমেছে অনলাইন ফুড ডেলিভারি পরিষেবাও। অনেক জায়গাতেই কমে গিয়েছে সুইগি ও জোমাটোর মাধ্যমে খাবারের অর্ডার ও ডেলিভারি।
রেস্তোরাঁ ও হোটেল মালিক অভিযোগ করছেন, তাঁরা পর্যাপ্ত বাণিজ্যিক এলপিজি সিলিন্ডার পাচ্ছেন না। রান্নার জন্য এই গ্যাসের ওপরই মূলত নির্ভর করতে হয়। গ্যাস সরবরাহে ঘাটতি হওয়ায় অনেক রেস্তোরাঁ আগের মতো খাবার তৈরি করতে পারছে না। ফলে সীমিত করে দেওয়া হয়েছে মেনু। কিছু রেস্তোরাঁ আবার সাময়িকভাবে দোকান বন্ধ রাখার কথাও ভাবছে। ফলে অনলাইন ফুড ডেলিভারি পরিষেবাও সমস্যায় পড়েছে। কারণ রেস্তোরাঁতে খাবার তৈরি না হলে ডেলিভারি প্ল্যাটফর্মে অর্ডার এলেও তা পাঠানো সম্ভব হচ্ছে না।
কলকাতায় সুইগি, জোমাটো পরিষেবাতে পরিবর্তন লক্ষ্য করা গিয়েছে। কোথাও ২০-২৫ মিনিটের ডেলিভারি ৬০ সেকেন্ডে সময় লাগছে, আবার কোথাও রাখা হয়েছে সীমিত মেনু। বেশ কিছু রেস্তোরাঁর সমস্যার বিষয় সামনে এসেছে। যেমন 'ভূতের রাজা দিল বর-এ ইতিমধ্যে একটি আউটলেট বন্ধ রাখা হয়েছে। গ্যাস সংকটে কিছু জায়গায় খাবার ডেলিভারি কমিয়ে দিয়েছে ‘বাওয়ারচি’।
এছাড়াও জনপ্রিয় বাঙালি রেস্তোরাঁ ‘৬ বালিগঞ্জ প্লেস’-এ বুফে সার্ভিস বন্ধ করে দিয়েছে। এখন বেশিরভাগ ক্ষেত্রে আ লা কার্টে মেনু দেওয়া হচ্ছে। ফলে সুইগি-জোমাটো তে অর্ডার কমেছে। ‘মেনল্যান্ড চায়না’-তে উইকডে বাফেট বন্ধ বা সীমিত করেছে। গ্যাস সংকটের কারণে বুফে পরিষেবায় পরিবর্তন এনেছে ‘ফেম অ্যান্ড গ্রিল’ও। রান্না কম হওয়ায় কমেছে ডেলিভারির সংখ্যাও। গ্যাস বাঁচাতে পুরোপুরি আ লা কার্টে মেনুতে চলে গিয়েছে ‘দ্য ওয়াল’। রেস্তোঁরাগুলোর এই সব পরিবর্তনেই একধাক্কায় কমে গিয়েছে সুইগি জোমাটোর ডেলিভারি।
ফুড ডেলিভারি সংস্থাগুলির সঙ্গে যুক্ত রেস্তোঁরা মালিকেরা অনিশ্চয়তায় ভুগছেন। গত কয়েক দিনে অনলাইন অর্ডার পূরণ করতে সমস্যা হচ্ছে। অনেক সময় গ্রাহকদের অর্ডার বাতিল করতে হচ্ছে বা ডেলিভারিতে দেরি হচ্ছে। এতে গ্রাহকরা যেমন অসুবিধায় পড়ছেন, তেমনি ব্যবসায়ীদেরও ক্ষতি হচ্ছে।
















