সারাদিন ফোন হাতে নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়া স্ক্রল করা এখন অনেকেরই অভ্যাস। ঘুম থেকে উঠেই ইনস্টাগ্রাম,ফেসবুক খুলে বসা, একের পর এক ভিডিও দেখা, খবর পড়া বা রিল স্ক্রল করতে করতে কখন যে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কেটে যায়, অনেকেই টের পান না। এই অভ্যাসকেই বলা হয় ‘ডুমস্ক্রলিং’। অর্থাৎ এমনভাবে মোবাইলে ডুবে থাকা, যা ধীরে ধীরে মানসিক ক্লান্তি, উদ্বেগ ও বিরক্তি বাড়িয়ে দেয়। তবে ২০২৬ সালে এসে নতুন প্রজন্মের অনেকেই এই অভ্যাস থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করছেন। তারা এখন সময় কাটাচ্ছেন নিজের পছন্দের নানা শখের কাজে। আর এই নতুন লাইফস্টাইল ট্রেন্ডের নামই হল ‘হবি-ম্যাক্সিং’।


সহজভাবে বললে, হবি-ম্যাক্সিং মানে হল অবসর সময় মোবাইলে নষ্ট না করে এমন কিছু করা, যা করতে ভাল লাগে এবং মনকে শান্ত রাখে। যেমন বই পড়া, ছবি আঁকা, রান্না করা, গান শেখা, বাগান করা, সেলাই, ডায়েরি লেখা, গিটার বাজানো বা নতুন কোনও ভাষা শেখা। কেউ কেউ নিয়মিত হাঁটতে বের হচ্ছেন, যোগব্যায়াম করছেন বা নাচের ক্লাসেও যোগ দিচ্ছেন।


বিশেষজ্ঞদের মতে, সারাদিন স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকলে মস্তিষ্কের উপর চাপ পড়ে। এতে মনোযোগ কমে যায়, ঘুমের সমস্যা হয় এবং মানুষ ধীরে ধীরে মানসিকভাবে ক্লান্ত হয়ে পড়ে। অনেক সময় সোশ্যাল মিডিয়ায় অন্যের জীবন দেখে নিজের জীবনকেও খারাপ মনে হতে শুরু করে। তাই এখন অনেক তরুণ-তরুণী সচেতনভাবে ফোন থেকে একটু দূরে সরে গিয়ে বাস্তব জীবনের ছোট ছোট আনন্দে মন দিচ্ছেন। এই কারণেই ‘অ্যানালগ লাইফস্টাইল’ও জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। 


এটি এমন জীবনযাপন, যেখানে প্রযুক্তির ব্যবহার কমিয়ে বাস্তব অভ্যাসকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়। এখন অনেকেই রাতে ফোন ঘাঁটার বদলে বই পড়ছেন, কাগজে ডায়েরি লিখছেন কিংবা বন্ধুদের সঙ্গে সামনাসামনি সময় কাটাচ্ছেন।


 এই শখের চর্চা মানুষের মানসিক স্বাস্থ্যের জন্যও খুব ভাল। হাতে কিছু তৈরি করা বা নিজের পছন্দের কাজ করলে মন ভাল থাকে, চাপ কমে এবং আত্মবিশ্বাসও বাড়ে। অনেকের মতে, শখের কাজ এখন তাদের কাছে থেরাপির মতো কাজ করছে।


মজার বিষয় হল, সোশ্যাল মিডিয়া থেকেই আবার এই ট্রেন্ড জনপ্রিয় হয়েছে। এখন ইনস্টাগ্রাম বা অন্য কোনও সমাজমাধ্যমের প্ল্যাটফর্মে অনেকেই নিজের লেখালেখি, সেলাই কিংবা বাগান করার ভিডিও শেয়ার করছেন। তবে এতে লক্ষ্য শুধু ভাইরাল হওয়া নয়, বরং অন্যদেরও ফোনের বাইরে সুন্দর জীবন খুঁজে নিতে উৎসাহ দেওয়া।


অনেক তরুণের কথায়, সারাদিন মোবাইল ঘাঁটার পরে যে ক্লান্তি আসে, তার থেকে অনেক বেশি শান্তি পাওয়া যায় একটা বই পড়লে বা নিজের পছন্দের কোনও কাজ করলে। কারণ বাস্তব জীবনের আনন্দ কখনও ভার্চুয়াল দুনিয়া পুরোপুরি দিতে পারে না।


সবমিলিয়ে, ‘হবি-ম্যাক্সিং’ শুধু নতুন কোনও ট্রেন্ড নয়, বরং নতুন প্রজন্মের জীবনযাপনের ভাবনায় বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত। যেখানে সোশ্যাল মিডিয়ার ক্রমাগত স্ক্রলের বদলে গুরুত্ব পাচ্ছে নিজের শখ, মানসিক শান্তি এবং বাস্তব জীবনের ছোট ছোট সুখ।