সোশ্যাল মিডিয়ার দেওয়ালে প্রতিদিন হাজারো ভিডিও ঘোরে। কোনটা দেখে আমরা কাঁদি, কোনটা দেখে রাগ হয়। কিন্তু সম্প্রতি এক্স হ্যান্ডেলে ভাইরাল হওয়া মাত্র ১৫ সেকেন্ডের একটি ক্লিপ নেটপাড়ার বাসিন্দাদের এমন এক দোলাচলে ফেলে দিয়েছে, যেখানে রাগ আর হাসির সীমানাটা একাকার হয়ে গেছে। শান্ত, সবুজ এক গ্রামের বুক চিরে চলে যাওয়া রাস্তার ওপর যা ঘটল, তা এককথায় অবিশ্বাস্য, অভূতপূর্ব এবং চরম নাটকীয়!

কী আছে সেই ভিডিওতে? এক ঝলক দেখলে মনে হবে কোনো অ্যাকশন সিনেমার টানটান দৃশ্য। কিন্তু এর পেছনের গল্পটা ঠিক কী? এটা কি সত্যিই ঘটেছে, নাকি স্রেফ সস্তার জনপ্রিয়তার জন্য সাজানো নাটক?

ওই ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে প্রথমেই দেখা যাচ্ছে সবুজ খেত দিয়ে ঘেরা একটা ফাঁকা রাস্তা। মাথায় ক্যামেরা লাগানো হেলমেট পরে নিজের বাইক থামিয়েছিলেন এক যুবক। নিমেষের মধ্যে তাঁকে ঘিরে ধরে একদল স্থানীয় কিশোর। ক্যামেরার সামনে প্রথমে সবকিছু বেশ বন্ধুত্বপূর্ণই লাগছিল। কিন্তু ছন্দপতন ঘটল তার ঠিক কয়েক মুহূর্ত পর।

গ্রুপের মধ্যে আর্জেন্টিনার জার্সি আর কমলা রঙের হাফপ্যান্ট পরা এক ডানপিটে ছেলে হুট করেই চড়ে বসে বাইকারের ওপর। শুধু মুখে কথা কাটাকাটি নয়, সে রীতিমতো ধাক্কাধাক্কি শুরু করে যুবকের সঙ্গে। একপর্যায়ে ঔদ্ধত্যের সীমা ছাড়িয়ে ছেলেটি পা থেকে চটি খুলে উঁচিয়ে ধরে বাইকারকে মারার হুমকি দেয়! তাকে দেখে তেড়ে আসে দলের বাকি ছেলেরাও। পরিস্থিতি যখন হাতের বাইরে চলে যাচ্ছে, তখনই ঘটল সেই চরম মুহূর্ত!

পরের এক সেকেন্ডে কী হতে চলেছে, তা বোধহয় ওই কিশোরের দূরতম কল্পনাতেও ছিল না। বাইকার আচমকাই ছেলেটির দুটি হাত শক্ত করে চেপে ধরেন। আর তার ঠিক ০.২ সেকেন্ডের মধ্যে, কোনও চিন্তাভাবনা ছাড়াই, চোখের পলকে ছেলেটিকে আক্ষরিক অর্থেই শূন্যে ছুঁড়ে ফেলে দিল সে রাস্তার পাশে থাকা গভীর ঘাসের জমিতে! ঢালু জমি বেয়ে গড়াতে গড়াতে ক্ষেতের উপর গিয়ে হুমড়ি খেয়ে পড়ে সেই ‘বাহুবলী’ বালক। যদিও ঘাস নরম থাকায় পরক্ষণেই সে আবার ঝটপট উঠে দাঁড়ায়।

 

ভিডিওর এই অংশটুকু কেটে সোশ্যাল মিডিয়ায় আসতেই লাইক আর কমেন্টের বন্যা বয়ে যায়। কিন্তু একটু খোঁজখবর নিতেই বেরিয়ে আসে আসল সত্যি। জানা যায়, এই ১৫ সেকেন্ডের ক্লিপটি আসলে কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এটি বাংলাদেশের জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও ভ্লগার ‘বিল্লাহ ভাও’-এর ফেসবুক পেজে আপলোড করা ১২ মিনিটের একটি বড় ব্লগের অংশ।

পুরো ভিডিওটি দেখলে বোঝা যায়, ওই বাচ্চারা প্রথমে ব্লগারকে নিজেদের ‘ফ্যান’ বলে দাবি করে তাঁর কাছে আসে। কিন্তু কিছুক্ষণ পরেই তারা ভ্লগারের কাছে টাকা দাবি করতে শুরু করে। এখানেই শেষ নয়, দলের একজন তো বাইকের চাবিটাই পকেটস্থ করার চেষ্টা করে! আর তাতেই মাথা গরম হয়ে যায় ওই বাইকারের। তবে পুরো ঘটনাটি আসলেও সত্য, নাকি ভিউ পাওয়ার চক্করে বানানো কোনও সাজানো ‘স্ক্রিপ্ট’, তা নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা কাটেনি।

ভিডিওটি নেটদুনিয়ায় আসতেই কমেন্ট বক্স যেন আক্ষরিক অর্থেই যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। নেটিজেনদের একাংশ এই ঘটনাকে বছরের সেরা হাসির খোরাক বলে তকমা দিয়েছেন।

এক ইউজার লিখেছেন, “এই ভিডিওটাকে ইতিহাসের অন্যতম সেরা হাসির ভিডিওর খেতাব দেওয়া উচিত!” অন্য একজন আবার টিপ্পনি কেটে লিখেছেন, “বাচ্চাটা নিজেকে সিনেমার প্রধান নায়ক ভাবছিল, ০.২ সেকেন্ডের মধ্যে ও রাস্তার পাশের ঝোপঝাড়ের ব্যাকগ্রাউন্ড হয়ে গেল! এটাকে বছরের সেরা ক্যাচ বলা যায়।” অনেকের মতে, ত্যাঁদড় বাচ্চাদের সোজা করার এর চেয়ে ভাল দাওয়াই আর হতেই পারে না।

তবে এই হাসাহাসির উল্টো পিঠে তৈরি হয়েছে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ। সমাজের একটা বড় অংশ এই ঘটনায় তীব্র আপত্তি জানিয়েছেন। একজন লিখেছেন, “পুরুষদের কাছে কমেডির সংজ্ঞাটাই অদ্ভুত। একটা বাচ্চাকে এভাবে বুলিং করাটা কীভাবে মজার হতে পারে?” আর এক ক্ষুব্ধ নেটিজেনের দাবি, “এই বাইকারকে অবিলম্বে জেলে পাঠানো উচিত। ছেলেটার যদি মেরুদণ্ডে বা ঘাড়ে বড় কোনও চোট লাগত, তবে তার দায় কে নিত?”

সত্যি হোক বা অভিনয়, ১৫ সেকেন্ডের এই ‘দারুচিনি-মরিচ’ মার্কা নাটকীয় ভিডিও যে এই মুহূর্তে নেটপাড়ার সবচেয়ে বড় বিনোদন, তা অস্বীকার করার কোনও উপায় নেই!