সামনেই রথযাত্রার পুণ্যতিথি। শতাব্দী প্রাচীন রথযাত্রা কমিটিগুলোর জন্য রাজ্যের ৫ লক্ষ টাকার অনুদান ঘোষণায় স্বাভাবিকভাবেই খুশির হাওয়া। তবে আপনার ক্লাব বা পাড়ার রথযাত্রা যদি এতটা পুরোনো না হয়, তবে ভেঙে পড়ার কারণ নেই। বড় অনুদান না থাকলেও, হাতের কাছে থাকা সামান্য বাজেটেই ধুমধাম করে আয়োজন করা সম্ভব জগন্নাথদেবের রথযাত্রা।

রথযাত্রার আয়োজনে প্রাথমিক বাজেট

একটি ছোট ক্লাব বা পাড়ার উদ্যোগে রথযাত্রার মূল অনুষ্ঠান সম্পন্ন করতে সাধারণত ১৫,০০০ থেকে ৩০,০০০ টাকার মতো খরচ হতে পারে। নীচে এর একটি প্রাথমিক খসড়া দেওয়া হলো:

 

মূর্তি (জগন্নাথ, বলরাম, সুভদ্রা)   ৫,০০০ – ১০,০০০ টাকা (আনুমানিক খরচ)

পুজোর সামগ্রী ও ভোগ              ৪,০০০ – ৮,০০০  টাকা (আনুমানিক খরচ)

পুরোহিত দক্ষিণা                        ২,৫০০ – ৫,০০০  টাকা  (আনুমানিক খরচ)

সাজসজ্জা ও আলোকসজ্জা       ৩,০০০ – ৭,০০০  টাকা  (আনুমানিক খরচ)

মোট                                          ১৫,০০০ – ৩০,০০০ টাকা  (আনুমানিক খরচ)

 

বাজেটকে নিয়ন্ত্রণে রেখেও অনুষ্ঠানকে জাঁকজমকপূর্ণ করতে চাইলে এই পদ্ধতিগুলো মেনে চলতে পারেন:

১. নিজেদের হাতে রথ তৈরি: দোকান থেকে রেডিমেড রথ কেনার খরচ অনেক সময় সাধ্যের বাইরে থাকে। ক্লাবের সদস্যরা মিলে শক্ত কার্ডবোর্ড, প্লাইউড বা বাঁশ দিয়ে নিজেরাই রথ তৈরি করে ফেলুন। এতে একদিকে যেমন সাশ্রয় হবে, অন্যদিকে সৃজনশীলতার বিকাশ ঘটবে।

২. ভোগের রান্নাঘরে ‘টিম ওয়ার্ক’: রান্নার জন্য বাইরে থেকে ঠাকুর না ডেকে ক্লাবের সদস্যরা নিজেরাই রান্না করুন। খিচুড়ি ভোগ রান্নায় সদস্যদের অংশগ্রহণ অনুষ্ঠানটিকে আরও ঘরোয়া এবং প্রাণবন্ত করে তোলে। রান্নার খরচ এতে অনেকটাই কমে যাবে।

৩. স্থায়ী মূর্তি বা ছবির ব্যবহার: প্রতি বছর নতুন মূর্তি কেনার চেয়ে একবার একটি ভালো মানের স্থায়ী পিতল, কাঠ বা মাটির মূর্তি কিনে ফেলুন। অথবা সুন্দর বাঁধাই করা ছবি ব্যবহার করতে পারেন। এতে পরবর্তী বছরগুলোর জন্য বড় একটি খরচের বোঝা থেকে মুক্তি পাবেন।

রথযাত্রার মূল উদ্দেশ্য হল আনন্দ ভাগ করে নেওয়া। তাই বড় সরকারি অনুদান না পেলেও, পাড়ার একদল উৎসাহী মানুষের আন্তরিকতাই একটি ছোট রথযাত্রাকে স্মরণীয় করে তোলার জন্য যথেষ্ট!