আপনার বয়স ২৫ ছুঁয়ে গেল, অথচ আপনার নামের তকমায় এখনও ‘সিঙ্গেল’ লেখা? ভাগ্যিস আপনি ডেনমার্কে নেই! যদি সে দেশে থাকতেন , ব্যস! আপনার কপালে সুগন্ধী দুঃখ নাচত। আজ্ঞে হ্যাঁ, সুগন্ধী দুঃখ। আসলে সে দেশে একটি মজার নিয়ম হল, ২৫তম জন্মদিনে কেউ অবিবাহিত থাকলে বন্ধুবান্ধব আর পরিবার মিলে তাকে আক্ষরিক অর্থেই মুড়ে দেবে দারুচিনির চাদরে। মানে বিষয়টির গায়ে রীতিমতো লেপ্টে রয়েছে চরম সামাজিক লাইসেন্স!
অবিবাহিত সেই ড্যানিশ নারী অথবা পুরুষের বন্ধুরা অবশ্য এখানে বিন্দুমাত্র দয়া দেখায় না। যাতে মশলাটা গায়ে ভাল করে লেপ্টে থাকে, তাই প্রথমে বালতি বালতি জল ঢেলে চপচপে ভিজিয়ে দেওয়া হয়। তারপর মাথা থেকে পা পর্যন্ত চলে দেদার দারুচিনি-বৃষ্টি। আর সেসব দেখেশুনে ডেনমার্কের রাস্তায় তখন শুরু হয় হুল্লোড় আর হাসির রোল!
তা সিঙ্গল-দের জন্য হঠাৎ দারুচিনি ‘শাস্তি’ কেন? এর পেছনে রয়েছে কয়েকশো বছরের পুরোনো এক রোমাঞ্চকর ইতিহাস। হ্যাঁ, এই প্রথার শিকড় লুকিয়ে আছে শতবর্ষ প্রাচীন ইতিহাসে। সে যুগে মশলা বিক্রেতারা ব্যবসার খাতিরে এক দেশ থেকে অন্য দেশে ঘুরে বেড়াতেন। এক জায়গায় থিতু হতে পারতেন না বলে তাদের কপালে সচরাচর বউ জুটত না!
চিরকুমার এই মশলা বিক্রেতাদের ডেনমার্কে ডাকা হতো “Pebersvends” বা সহজ বাংলায় “পেপার ডুডস” (গোলমরিচ বাবু)। আর কোনো নারী যদি এমন অবিবাহিত থেকে যেতেন, তবে তাঁর তকমা জুটত “Pebermo” বা “মরিচ কন্যা”
২৫ বছরের জন্মদিনে তো তাও মিষ্টি গন্ধের দারুচিনি সইতে হয়। কিন্তু বয়স যদি ৩০ পার হয়ে যায় আর তখনও সে সিঙ্গেল থাকেন? দারুচিনি তখন আপগ্রেড হয়ে যায় আসল গোলমরিচে! তখন আপনার গায়ে উড়বে খাঁটি গোলমরিচের গুঁড়ো। আর বন্ধুরা যদি একটু বেশিই ‘দুষ্টু’ হয়? তাহলে আঠার কাজ করতে দারুচিনির সঙ্গে যোগ হবে কাঁচা ডিম! ব্যাস, গন্ধের চোটে সিঙ্গেল থাকার সাধ সারা জীবনের মতো মিটে যাবে।আর বন্ধুরা যদি একটু বেশিই খ্যাপাটে হয়, তবে মশলা যাতে গা থেকে ঝরে না পড়ে, তার জন্য ফেটানো কাঁচা ডিমও যোগ করা হয় সেই মিক্সে। ভাবুন একবার অবস্থা!
এই ডিম-মশলার কাণ্ড দেখে ভাববেন না ড্যানিশ সমাজ সিঙ্গেলদের নীচু চোখে দেখে। একেবারেই নয়! ডেনমার্কে পুরুষদের বিয়ের গড় বয়স সাড়ে ৩৪ বছর, আর নারীদের ক্ষেত্রে তা প্রায় ৩২। আসলে এটি কোনও সামাজিক শাস্তি বা তিরস্কার নয়; বরং জীবনের একটা বিশেষ মাইলস্টোনে প্রিয় বন্ধুকে একটু খ্যাপানো, তার সাথে চরম দুষ্টুমি করা আর দল বেঁধে একটা পাগলামো করার খাঁটি ডেনমার্কীয় কায়দা। বন্ধুদের পচানোর এমন সুবর্ণ সুযোগ কে-ই বা ছাড়ে!
দিনশেষে গায়ে দারুচিনির গন্ধ আর মুখে এক চিলতে হাসি নিয়ে ড্যানিশরা প্রমাণ করে দেয়—সিঙ্গেল থাকাটা কষ্টের নয়, উদযাপনেরও হতে পারে! তা, আপনার কোন সিঙ্গেল বন্ধুর ২৫ বা ৩০তম জন্মদিন আসছে?
আইডিয়াটা কিন্তু ট্রাই করে দেখতে পারেন!















