ইন্ডিগোর কর্মীরা কাজের সময় কপালে তিলক পরতে পারবেন না৷ এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তুমুল বিতর্ক তৈরি হয়েছে৷ ইন্ডিগোকে বয়কট করার দাবিও উঠেছে৷ সমাজমাধ্যমে ইন্ডিগোর গ্রুমিং পলিসি নিয়ে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে৷ 

এর আগেই 'লেন্সকার্ট'কে কেন্দ্র করে একই ধরনের অভিযোগ উঠেছিল। হিজাব, পাগড়ি এসব নিয়ে আপত্তি জানিয়েছিল লেন্সকার্ট৷বিতর্কের জেরে সংস্থার কর্মকর্তা পীয়ূষ বনশাল ক্ষমা চেয়েছিলেন, সমস্ত ধর্মের প্রতীককে সমান মর্যাদা দেওয়া হবে বলেও জানিয়েছেন৷ 

প্রশ্ন উঠছে, কর্পোরেট সংস্থাগুলি কি ‘প্রফেশনালিজম’-এর নামে ধীরে ধীরে ধর্মীয় বিষয়, মানুষের স্বাভাবিক বিশ্বাসে হস্তক্ষেপ করছে? 

একাংশের দাবি, এটি শুধুমাত্র ড্রেস কোড নয়, বরং ব্যক্তিগত ধর্মীয় স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করা । 
সোশ্যাল মিডিয়ায় ‘তিলক বনাম রুলস’ বিতর্ক তৈরি হয়েছে৷ একদল মানুষ মনে করছেন, কর্মক্ষেত্রে নির্দিষ্ট ড্রেস কোড থাকা জরুরি। বিশেষ করে বিমান সংস্থার মতো জায়গায় কাজের পোশাক, সংস্থার ভাবমূর্তি গুরুত্বপূর্ণ। তাই নির্দিষ্ট ড্রেস কোড থাকা বাধ্যতামূলক। অন্যদিকে, আরেকটি অংশের মতে, ব্যক্তিগত বিশ্বাস বা ধর্মীয় বিশ্বাসে হস্তক্ষেপ করা ঠিক নয়৷ 


বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের গ্রুমিং নীতি অনেক সময় আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখা, নিরাপত্তা এবং একরকম পেশাদার চেহারা তৈরি করার জন্য করা হয়। তবে সমস্যা তৈরি হয় তখনই, যখন এই নিয়মগুলি সাংস্কৃতিক সংবেদনশীলতার সঙ্গে সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে।
এই ঘটনা স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, আধুনিক কর্মক্ষেত্রে একটি সূক্ষ্ম ভারসাম্য প্রয়োজন—একদিকে কোম্পানির নিয়ম ও পেশাদারিত্ব, অন্যদিকে ব্যক্তিগত পরিচয় ও ধর্মীয় স্বাধীনতা।
'ইন্ডিগো'কে ঘিরে এই বিতর্ক শুধুমাত্র একটি সংস্থার নীতির প্রশ্ন নয়, বরং বৃহত্তর সমাজে পরিচয়, সংস্কৃতি ও পেশাদারিত্বের সম্পর্ক নিয়ে এক গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার দরজা খুলে দিয়েছে।