আজ যদি আপনি সকাল থেকে ফেসবুক বা এক্স-এর দেওয়ালে স্ক্রোল করে থাকেন, তবে ইন্টারনেটের নতুন অথচ চেনা-চেনা একটি ব্যাপারের দেখা নিশ্চয়ই পেয়েছেন। সে কোনও মানুষ নয়, বরং এক পরম বিষণ্ণ, গভীর চিন্তামগ্ন গোরিলা! আর তাকে দেখে মনে হচ্ছে, সে যেন এই মুহূর্তে নিজের জীবনের প্রতিটি অতীত সিদ্ধান্ত এবং ভুলত্রুটি নিয়ে মনে মনে অডিট করতে বসেছে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি অত্যন্ত মজাদার ভিডিও ঝড়ের গতিতে ভাইরাল হয়েছে, যা মূলত দুটি আলাদা অংশে বিভক্ত। প্রথম অংশে দেখা যাচ্ছে, একটি পুরুষ গোরিলাকে খাঁচার ভেতর থেকে চরম রেগে গিয়ে তাড়া করছে একটি মহিলা গোরিলা। আর দ্বিতীয় অংশে ক্যামেরা কাট করে দেখাচ্ছে, সেই পুরুষ গোরিলাটি মাঠের এক কোণে সম্পূর্ণ একা বসে, গালে হাত দিয়ে, উদাস চোখে আকাশের দিকে তাকিয়ে গভীর অস্তিত্ব সংকটে ভুগছে!

 

যদিও নেটিজেনদের একাংশ ইতিমধ্যেই ধরে ফেলেছেন যে এই ভিডিওটির দুটি অংশ আসলে সম্পূর্ণ ভিন্ন ভিন্ন সময়ের এবং দুটি আলাদা ভিডিওকে একসঙ্গে জোড়াতালি দিয়ে বানানো হয়েছে। কিন্তু তাতে কী! নেটিজেনদের কাছে এই পুরুষ গোরিলা ‘কিয়োমাসার ম্যারাটাল ক্রাইসিস’ বা পারিবারিক অশান্তির কাল্পনিক গল্পটি এতটাই মনে ধরেছে যে, মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যে কমেন্ট বক্স খিলখিল হাসির এক খনিতে পরিণত হয়েছে। প্রত্যেকেই এই গোরিলার বডি ল্যাঙ্গুয়েজের মধ্যে সাধারণ মানুষের সম্পর্কের টানাপোড়েন খুঁজে পাচ্ছেন।

সোশ্যাল মিডিয়া একযোগে মেনে নিয়েছে— ভিডিওতে এই গোরিলাকে দেখে আর কোনও বন্য জন্তু মনে হচ্ছে না, তাকে হুবহু সেই স্বামীর মতো লাগছে যে এইমাত্র ড্রইং রুমে বউয়ের সঙ্গে এক তুমুল তর্কে হেরে গিয়ে শাস্তি হিসেবে বাড়িরই পিছনে বা ছাদে একা বসে নিজের কী কী ভুল হল, তা ভাবছে!

 

?ref_src=twsrc%5Etfw">June 9, 2026

 

 

গোরিলাটির বসার কায়দা দেখে নেটিজেনরা যে সমস্ত মন্তব্য করেছেন, তা সত্যিই হাসতে হাসতে পেটে খিল ধরিয়ে দেবে -

“ভাই তো একেবারে অনুশোচনার চারটে পোজ একসঙ্গে দিয়ে দিল!”

“এই গোরিলাটা ১০০% একদম সাধারণ পুরুষদের মতো আচরণ করছে।”

“ভাই আমাদের আগামী ১০ বছরের মতো নতুন মিম মেটেরিয়াল ও রিঅ্যাকশন দিয়ে দিল।”

অনেকের কাছেই গোরিলার এই একা বসে থাকার দৃশ্যটি সম্পর্কের সেই চেনা ‘লেট-নাইট ওভারথিঙ্কিং’ বা গভীর রাতে একা একা ভাবার স্মৃতি উসকে দিয়েছে। একজন নেটপাড়ার বাসিন্দা লিখেছেন, “গোরিলাটা কিন্তু একা বসে নেই... ও আসলে বউয়ের সঙ্গে হওয়া তর্কটা রি-প্লে করছে এবং ভাবছে ৩ ঘণ্টা আগে ও কী কী জুতসই উত্তর দিতে পারত, যা ও এখন ভাবছে!” অন্য একজন লিখেছেন, “ভাই তর্কে জিতে তো গেছে, কিন্তু তার জন্য কী চড়া মূল্য চোকাতে হল দেখুন!” আবার অন্য একজনের রসিকতা— “ও এখন ভাবছে, আমি যদি এখন একটা কলা নিয়ে শান্তিদূত হিসেবে ওঁর ঘরে যাই, ও কি সেটা নেবে নাকি ওটা আমার মাথায় ছুঁড়ে মারবে?”

 

কৌতুকপ্রিয়তার পারদ আরও চড়ে যখন নেটিজেনরা কিয়োমাসার এই কাল্পনিক পারিবারিক বিবাদের আইনি ও আর্থিক দিক নিয়ে হিসাব কষতে বসেন। একজন ইউজার লিখেছেন, “বিবাহবিচ্ছেদ? খোরপোশ? বাচ্চাদের দায়িত্ব কে পাবে? এই বয়সে এসে কি আমাকে আবার নতুন করে ডেটিং শুরু করতে হবে? ধুর...ওসবের চেয়ে কাল সকালে একছড়া কলা নিয়ে গিয়ে ওঁর কাছে ক্ষমা চেয়ে নেব। সত্যি বলতে, আমরা কী নিয়ে ঝগড়া করছিলাম সেটাই আমার মনে নেই, শুধু এটুকু জানি ভুলটা আমারই ছিল। তাছাড়া, আমি কোনওভাবেই ওঁর উকিলকে আমার সাধের টায়ার সুইং (খাঁচায় খেলার টায়ার)-এর অর্ধেক অংশ নিয়ে যেতে দিতে পারি না!”

শুধু হাসাহাসিই নয়, এই ভাইরাল ক্লিপটি অনেকের মনের কোণে লুকিয়ে থাকা ছোটবেলার বাস্তব কিছু পারিবারিক ছবিও মনে করিয়ে দিয়েছে। একজন ব্যবহারকারী নিজের অভিজ্ঞতা শেয়ার করে লিখেছেন, “আমার মনে আছে, ছোটবেলায় যখন দাদু-দিদার বাড়ি যেতাম, একদিন দাদু দিদাকে রাগিয়ে দেওয়ার দরুন ঘর থেকে লক-আউট হয়ে গিয়েছিলেন। দাদু তখন বাইরে একা বসে চুপচাপ সিগারেট খাচ্ছিলেন। গোরিলাটাকে দেখে আমার দাদুর সেই মুখটাই মনে পড়ে গেল।”

আপাতত নেটদুনিয়ায় ট্রেন্ডিংয়ের তালিকায় এক নম্বরে রাজত্ব করছে এই ‘হতাশ স্বামী’ গোরিলা, যার বিষণ্ণতাই এখন নেটিজেনদের আনন্দের খোরাক!