কর্মজীবনের শুরুর দিকে আয় সীমিত হলে বিনিয়োগ ও সঞ্চয়ের পরিকল্পনা করা কঠিন হয়। জীবনযাত্রার খরচ, বিভিন্ন বিল এবং বাড়ি ভাড়ার কারণে দীর্ঘমেয়াদী সম্পদ গড়ে তোলার জন্য আলাদা করে টাকা জমানো অসম্ভব মনে হতে পারে। তবে, বিনিয়োগের ক্ষেত্রে কেবল টাকার পরিমাণের চেয়ে ধারাবাহিকতা বজায় রাখাটা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কেউ যদি নিয়মিতভাবে তাঁর মাসিক আয়ের অন্তত ১৫ শতাংশ থেকে ২০ শতাংশ আলাদা করে রাখতে পারেন, তবে তা 'কম্পাউন্ডিং'-এর (চক্রবৃদ্ধি সুদের) সুবিধা কাজে লাগিয়ে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সম্পদ বৃদ্ধিতে সহায়তা করতে পারে।
2
9
ধরা যাক, কারও মাসিক আয় ৪০,০০০ টাকা। অপ্রয়োজনীয় খরচ কমিয়ে আয়ের ২০ শতাংশ সঞ্চয় করার চেষ্টা করলে, মাত্র এক বছরের মধ্যেই তিনি লাখপতি হয়ে উঠতে পারেন।
3
9
মাসিক ৪০,০০০ টাকা আয়ের ক্ষেত্রে বছরে মোট আয় দাঁড়ায় প্রায় ৪.৮ লক্ষ টাকা (কর বা অন্যান্য ছাড়ের আগে)। ১২ মাসের মধ্যে ১ লক্ষ টাকা সঞ্চয় করতে হলে প্রতি মাসে অন্তত ৭,৮৫০ টাকা আলাদা করে রাখতে হবে। দীর্ঘমেয়াদে সম্পদ গড়ে তোলার অন্যতম কার্যকর উপায় হিসেবে মিউচুয়াল ফান্ডের এসআইপি-কে বিবেচনা করা হয়।
4
9
এসআইপি-তে বার্ষিক ১২ শতাংশ রিটার্ন বা মুনাফা ধরে নিলে, এক বছরে মাসিক বিনিয়োগ কীভাবে বৃদ্ধি পেতে পারে?
5
9
প্রথম পরিস্থিতি: ১) এসআইপি-র পরিমাণ: মাসিক ৭,৮৫০ টাকা, ২)বিনিয়োগের সময়কাল: ১ বছর, ৩) প্রত্যাশিত রিটার্নের হার: ১২ শতাংশ, ৪) বিনিয়োগকৃত অর্থ: ৯৪,২০০ টাকা, ৫) প্রত্যাশিত রিটার্ন: ৬,৩৫৩ টাকা, ৬) মোট মূল্য: ১,০০,৫৫৩ টাকা।
6
9
দ্বিতীয় পরিস্থিতি:১) মাসিক বিনিয়োগ: ৯,০০০ টাকা, ২) প্রত্যাশিত রিটার্ন: ১২ শতাংশ, ৩) মোট বিনিয়োগ: ১.০৮ লক্ষ টাকা, ৪) প্রত্যাশিত রিটার্ন: ৭,২৮৪ টাকা, ৫) মেয়াদ শেষে মোট অর্থ (ম্যাচিউরিটি কর্পাস): ১.১৫ লক্ষ টাকা।
7
9
সংক্ষেপে বলতে গেলে, মাসে ৪০,০০০ টাকা বেতন নিয়েও মাত্র ১২ মাসের মধ্যে ১ লক্ষ টাকার বেশি অর্থ বা তহবিল গড়ে তোলা সম্ভব। প্রতি মাসে আপনার আয়ের প্রায় ৮,০০০ থেকে ৯,০০০ টাকা নিয়মিত সঞ্চয় করে এবং তা এসআইপি-এর মাধ্যমে বিনিয়োগ করে, আপনি এক বছরে ১.০২ লক্ষ থেকে ১.১৫ লক্ষ টাকার একটি তহবিল গড়ে তুলতে পারেন।
8
9
শুরুর দিকের বছরগুলোতে সময়ের স্বল্পতার কারণে চক্রবৃদ্ধি সুদের বা 'কম্পাউন্ডিং'-এর প্রভাব পুরোপুরি কাজে লাগার সুযোগ থাকে না ঠিকই, তবে এই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে নিয়মিত সঞ্চয়ের একটি ভাল অভ্যাস গড়ে ওঠে।
9
9
বিনিয়োগের সর্বোত্তম উপায় হল "প্রথমে নিজেকে অর্থ প্রদান"-এর নীতিটি অনুসরণ করা। এর অর্থ হল বেতন পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আয়ের একটি নির্দিষ্ট অংশ সঞ্চয়ের জন্য আলাদা করে রাখা। এই অর্থ রিকারিং ডিপোজিট, সিস্টেমেটিক ইনভেস্টমেন্ট প্ল্যান বা বিশেষ সঞ্চয়ী অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে বিনিয়োগ করা যেতে পারে।