দীর্ঘ মহাকাশ অভিযানে নভোচারীরা অসুস্থ হয়ে পড়লে ওষুধ পাবেন কোথায়? পৃথিবী থেকে ওশুধ পৌঁছোতে পৌঁছোতে তো বিপদ থেমে থাকবে না৷ মহাকাশে বহু ওষুধ দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়। এমনকি আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে মজুত অর্ধেকেরও বেশি ওষুধ তিন বছরের মধ্যে মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে যায় বলে দেখা গেছে। এদিকে এক একটি পথ পাড়ি দিতেই লাগে ২০০-২৫০ দিন৷
এই সমস্যার সমাধানেই গাছ থেকেই ওষুধ তৈরির পরিকল্পনা করেছেন মহাকাশচারীরা৷ ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সান দিয়েগো ক্যাম্পাসের প্রকৌশলীরা মহাকাশের অনুরূপ পরিবেশে গাছ থেকে ওষুধ তৈরির সহজ পদ্ধতি উদ্ভাবন করেছেন। গাছ নষ্ট না করেই তৈরি হবে ওষুধ৷
গবেষক দল নিকোটিয়ানা বেনথামিয়ানা ও কালো চোখওয়ালা মটর (ব্ল্যাক-আইড পি) গাছ ব্যবহার করে সিপিএমভি (CPMV) নামক যৌগ তৈরি করেছেন। প্রধান গবেষক প্যাট্রিক অপডেনস্টাইনেন জানিয়েছেন, এই গাছে যৌগ উৎপাদন করা অত্যন্ত সহজ।
বিজ্ঞানীরা বলছেন, এই প্রযুক্তি গাছের পাতার ভেতরে তৈরি ওষুধ গাছের ক্ষতি না করেই বের করে আনতে পারে এবং একই গাছ থেকে বারবার ওষুধ পাওয়া যায়৷ গবেষণায় একটি ‘র্যান্ডম পজিশনিং মেশিন’ ব্যবহার করে অভিকর্ষহীনতা বা মাইক্রোগ্র্যাভিটির পরিবেশ কৃত্রিমভাবে তৈরি করা হয়েছিল।
এই পদ্ধতি কেবল মহাকাশেই নয়, পৃথিবীর সম্পদ-সীমিত প্রত্যন্ত অঞ্চলেও স্বল্পমূল্যে ওষুধ উৎপাদনে সহায়তা করতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই গবেষণা ভবিষ্যতের গভীর-মহাকাশ অভিযান, বিশেষত মঙ্গল-যাত্রার চিকিৎসা-সংক্রান্ত প্রস্তুতিতে এক বড় পদক্ষেপ। গাছই হয়ে উঠতে পারে মহাকাশের ভাসমান ফার্মেসি — চাহিদামতো ওষুধ তৈরির এক জীবন্ত কারখানা।















