বর্তমানে সৌন্দর্য ধরে রাখতে অনেকেই ভরসা করেন দামি সেলুন ট্রিটমেন্ট, ফেসিয়াল বা কসমেটিক ইনজেকশনের উপর। কিন্তু বিশেষজ্ঞদের মতে, আছে শরীরের ভেতরে লুকিয়ে সুন্দর ত্বক ও চুলের আসল রহস্য। নিয়মিত সঠিক পুষ্টি ও ভিটামিন গ্রহণ করলে মাত্র ৩০ দিনের মধ্যেই চোখে পড়ার মতো পরিবর্তন দেখা যেতে পারে। এমন তিনটি গুরুত্বপূর্ণ ভিটামিন রয়েছে যেগুলো ত্বক, চুল ও শরীরের গঠনে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য বাড়াতে সাহায্য করে।

ভিটামিন কে২ঃ ভিটামিন কে২ নিয়ে খুব বেশি আলোচনা না হলেও, এটি শরীরের গঠন ও ত্বকের সৌন্দর্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ভিটামিন শরীরে ক্যালসিয়ামকে সঠিক জায়গায় পৌঁছে দিতে সাহায্য করে। ফলে হাড় মজবুত হয় এবং মুখের গঠন আরও নিঁখুত হয়ে ওঠে। এই ভিটামিন মুখের ফোলা ভাব কমাতে সাহায্য করে, ত্বক টানটান রাখতে সহায়ক, বয়সের ছাপ ধীরে পড়তে পারে। ভিটামিন কে২ পাওয়া যায় ডিমের কুসুম, চিজ ও ফারমেন্টেড খাবারে।

বায়োটিনঃ বায়োটিনকে অনেকেই শুধু চুলের ভিটামিন বলে জানেন। কিন্তু বাস্তবে এটি চুল, ত্বক ও নখ-তিনটিরই ভিত গড়ে তোলে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বায়োটিন কেরাটিন উৎপাদন বাড়ায়, যা চুল ও ত্বকের জন্য অত্যন্ত জরুরি। এটি চুল পড়া কমাতে সাহায্য করে, চুল আরও ঘন ও শক্ত হয়, নখ ভাঙার প্রবণতা কমে, ত্বক মসৃণ ও স্বাস্থ্যকর দেখায়। বায়োটিন পাওয়া যায় ডিম, বাদাম, কলা ও ওটসের মতো খাবারে।

ভিটামিন এঃ ত্বকের যত্নে ভিটামিন এ বা রেটিনলের ভূমিকা সবচেয়ে বেশি। এটি ত্বকের পুরনো কোষ সরিয়ে নতুন কোষ তৈরি করতে সাহায্য করে। ত্বক বিশেষজ্ঞদের মতে, শরীর ভিটামিন এ নিয়মিত পেলে ত্বক আরও উজ্জ্বল ও প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। এই ভিটামিন ব্রণ ও দাগ কমাতে সাহায্য করে, ত্বক মসৃণ করে, বলিরেখা হালকা করতে পারে। ভিটামিন এ পাওয়া যায় গাজর, পেঁপে, মিষ্টি আলু ও সবুজ শাকসবজিতে।

৩০ দিনে কী পরিবর্তন দেখা যেতে পারে? ত্বকে প্রাকৃতিক জৌলুস, চুলে জেল্লা ও ঘনত্ব, মুখে সতেজ লুক আনে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভিটামিন গ্রহণের ক্ষেত্রে মাত্রা খুব গুরুত্বপূর্ণ। অতিরিক্ত সাপ্লিমেন্ট নেওয়ার আগে অবশ্যই চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

সৌন্দর্যের জন্য কেবল বাইরের সাজ নয়, ভেতরের যত্নই আসল চাবিকাঠি। সঠিক খাবার, পর্যাপ্ত জল, ঘুম এবং এই প্রয়োজনীয় ভিটামিন- এই চারটিই পারে আপনাকে ৩০ দিনে আরও সুন্দর করে তুলতে।

&t=172s