বাপ, ঠাকুরদাদের কাছে অনেকেই শুনেছি ৯-৫ টার চাকরি। কিন্তু এই সময় দাঁড়িয়ে এই বিষয়টাকে সোনার পাথর বাটি ছাড়া কিছুই মনে হয় না। কিছু কিছু ক্ষেত্রে ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা কাজ করতে হয়। তার পর বাড়ি থেকে এক্সট্রা 'সাপোর্ট' দেওয়ার বিষয় তো আছেই! বাদ যায় না ছুটির দিনে তলব। কিন্তু এসবে ৩০ থেকে মধ্য ৪০ এর জনগণ অভ্যস্থ হলেও, জেন জি কিন্তু এই ট্রেন্ডে বদল আনছে। তাঁদের কাছে ওয়ার্ক-লাইফ ব্যালেন্স জরুরি। ফলে আকর্ষণ বাড়ছে লেজি গার্ল চাকরির দিকে। এখানে চাপ কম, আছে সুস্থ ওয়ার্ক লাইফ ব্যালেন্স। কিন্তু ব্যাপারটা কী? 

লেজি গার্ল চাকরি মূলত সেই সব কাজকে বোঝানো হয় যেখানে তুলনামূলক চাপ কম থাকে। ওভারটাইমের ঝামেলা থেকে না। মাইনে মোটের উপর ভাল হয়। মোদ্দাকথায় এমন চাকরি যেখানে দায়িত্ব সবার মধ্যে সুন্দর ভাগ করা, কাজের চাপ যথাযথ, বেশি নয়। এবং ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবনের মধ্যে স্পষ্ট বাউন্ডারি লাইন রয়েছে। 

তার মানে কাজে ফাঁকি? না, একদম নয়। কিন্তু তাই বা সারাদিন বা দিনের পর দিন মুখ গুঁজে কেবল কাজ করে যাওয়া নয়। এমন ভাবে কাজ করো যাতে প্রোডাকটিভ কিছু করতে পারো, ভাল টাকা উপার্জন করতে পারো,  একই সঙ্গে অফিসের বাইরে নিজের একটা সুন্দর জীবন কাটাতে পারো।

কিন্তু জেন জি-দের মধ্যে এই ট্রেন্ড এত জনপ্রিয় কেন? অতিরিক্ত কাজের চাপ, ওভার টাইম, ছুটির দিনে মেইল, মেসেজ চেক করতে করতে ক্লান্তি, অবসাদ ঘিরে ধরছে। তাই এই বদল। একটি গবেষণায় দেখা গিয়েছে ৭৬ শতাংশ কর্মীরা অতিরিক্ত কাজের চাপে চিরেচ্যাপটা। আর ২৮ শতাংশ ঘনঘন একই অবস্থার মধ্যে দিয়ে যায়। ফলে থেকে থেকেই ছুটি নেওয়া, অসুস্থ হওয়া লেগে থাকে। নতুবা ঘনঘন চাকরি বদল করেন কেউ কেউ। ওয়ার্ক কালচার সুস্থ নয় বলে সেটা কর্মীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলে। 

জেন জি-দের অধিকাংশ তাই এই চাপ নিতে নিতে এত উদ্বেগ, অশান্তিতে ভুগতে শুরু করেছিল যে তারা এমন কাজের দিকে সরতে থাকে যেখানে মাইনে বিশাল না হলেও, ভাল। কিন্তু ওয়ার্ক লাইফ ব্যালেন্স যেখানে করা যাবে, কাজের চাপ কম সেটাকে তারা বেছে নিচ্ছে। 
তবে তাই বলে নামের মতো বিষয়টা মোটেই অলস জাতীয় কিছু নয়। বরং প্রোডাক্টিভিটি বাড়ে, যেটা অতিরিক্ত কাজের চাপে হারায়। 

নতুন প্রজন্মের ছেলেমেয়েদের কাছে তাই সাফল্য মানে রাত জেগে কী নয়। বা ব্যক্তিগত ভাল থাকাকে জলাঞ্জলি দেওয়া নয়। বরং প্রোডাকটিভ, সুস্থ কিছু তৈরি করা বা তার সঙ্গে যুক্ত থাকা, যেখানে অর্থনৈতিক উন্নতিও ঘটবে।