জিমে যাওয়া মানুষ থেকে শুরু করে ব্যস্ত কর্মজীবীরা, দীর্ঘদিন ধরেই প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবারকে সুস্বাস্থ্যের চাবিকাঠি হিসাবে দেখেন। তবে পুষ্টিবিজ্ঞানের দৃষ্টিভঙ্গি এখন বদলাচ্ছে। সেই জায়গায় নতুন করে গুরুত্ব পাচ্ছে ফাইবার। কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত চিকিৎসক ও লংজেভিটি বিশেষজ্ঞ ডা. ভাসিলি এলিওপুলোস তাঁর ১২ জানুয়ারির একটি ইনস্টাগ্রাম পোস্টে ব্যাখ্যা করেছেন, কেন উচ্চ ফাইবারযুক্ত খাদ্যাভ্যাস জনপ্রিয় হয়ে উঠছে এবং কীভাবে এটি শরীরের নানা উপকারে আসে।

ডা. ভাসিলির মতে, দীর্ঘমেয়াদি সুস্থতা ও বয়সজনিত সমস্যা প্রতিরোধের ক্ষেত্রে ফাইবার সম্ভবত সবচেয়ে অবমূল্যায়িত একটি পুষ্টি উপাদান। তাঁর কথায়, “সবাই এখন প্রোটিনের পিছনে ছুটছে, কিন্তু আগামী দিনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ লংজেভিটি ম্যাক্রো হতে চলেছে ফাইবার। প্রতিদিন আমরা যে গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদানটা সবচেয়ে বেশি উপেক্ষা করি, সেটাই ফাইবার।”

তিনি ফাইবারের গুরুত্ব বোঝাতে অন্ত্রের স্বাস্থ্য ও সামগ্রিক সুস্থতার যোগসূত্রের কথাও তুলে ধরেন। ডা. ভাসিলি বলেন, “আপনার শরীর যা হজম করতে পারে না, সেটাই খায় অন্ত্রের জীবাণুগুলি।” এই জীবাণুগুলি ফাইবারকে রূপান্তরিত করে শরীরের জন্য উপকারী কিছু শক্তিশালী উপাদানে। তাঁর ব্যাখ্যা অনুযায়ী, ফাইবার থেকে তৈরি হয় শর্ট-চেন ফ্যাটি অ্যাসিড, যা প্রাকৃতিক অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি উপাদান হিসেবে কাজ করে। দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ বা ইনফ্ল্যামেশন যে বার্ধক্য ও নানা রোগের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত, সে কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

এত উপকারিতা থাকা সত্ত্বেও বাস্তবে বেশিরভাগ মানুষের দৈনিক ফাইবার গ্রহণের পরিমাণ প্রয়োজনের তুলনায় অনেকটাই কম। ডা. ভাসিলির কথায়, “অধিকাংশ মানুষ তাঁদের প্রয়োজনের অর্ধেক ফাইবারও গ্রহণ করেন না।” দীর্ঘায়ু ও সুস্বাস্থ্যের জন্য তিনি দিনে ৩০ থেকে ৪০ গ্রাম ফাইবার গ্রহণের পরামর্শ দেন। ডাল, শাকসবজি, চিয়া সিড, ওটসের মতো খাবার থেকে এই ফাইবার পাওয়া যেতে পারে। পাশাপাশি খাদ্যতালিকায় বৈচিত্র্যের উপরও জোর দেন তিনি। বিভিন্ন ধরনের ফাইবার অন্ত্রে থাকা বিভিন্ন জীবাণুকে পুষ্টি জোগায়, তাই বৈচিত্র্যময় খাবার বেছে নেওয়া জরুরি।