হঠাৎ করে মুখ ফুলে যাওয়া, চোখের নিচে ফোলাভাব, শরীর ভারী লাগা-এমন সমস্যায় ভোগেন অনেকেই। ওজন মাপলে দেখা যায় ২–৩ কেজি বেড়ে গিয়েছে। কিন্তু ডায়েট বা খাবারে তেমন পরিবর্তন হয়নি। বিশেষজ্ঞদের মতে, এর পেছনে অনেক সময় ফ্যাট নয়, শরীরে জমে থাকা অতিরিক্ত জল বা ওয়াটার রিটেনশন দায়ী। আর এই সমস্যা ৪৮ ঘণ্টায় সমাধান করতে পারে একটি জুস। হ্যাঁ, শুনতে অবাক লাগলেও সম্প্রতি এই সেলারি ও শশার জুস নিয়ে সমাজমাধ্যমে চলছে বিস্তর আলোচনা। 

কেন শরীরে জল আটকে থাকে? পুষ্টিবিদদের মতে, শরীরে জল জমে থাকার কয়েকটি সাধারণ কারণ হল- অতিরিক্ত নুন বা সোডিয়াম গ্রহণ, পর্যাপ্ত জল না খাওয়া, দীর্ঘক্ষণ বসে থাকা, হরমোনের পরিবর্তন, সোডিয়াম শরীরের টিস্যুর মধ্যে জল আটকে রাখে। এর ফলেই মুখ, গাল, পেট ও হাত-পা ফোলা দেখায়।

ইদানীং সোশ্যাল মিডিয়ায় আলোচনায় উঠে এসেছে সেলারি ও শসার জুস। অনেকের দাবি, এই জুস খেলে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে শরীরে জমে থাকা জল কমে, মুখের ফোলাভাব হালকা হয় এবং শরীর হালকা লাগে। বিশেষজ্ঞদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, সেলারি-তে থাকা কিছু প্রাকৃতিক উপাদান কিডনিকে শরীর থেকে অতিরিক্ত সোডিয়াম বের করে দিতে সংকেত দেয়। সোডিয়াম বের হলে তার সঙ্গে সঙ্গে জলও বের হয়ে যায়। শসা-তে থাকা পটাশিয়াম শরীরের ইলেক্ট্রোলাইটের ভারসাম্য রাখতে সাহায্য করে। এই কারণেই অনেকের ক্ষেত্রে মুখের ফোলাভাব কমে এবং মুখে আগের লুকে দ্রুত ফিরে আসে।  

কীভাবে তৈরি করবেন এই জুস

উপকরণ: সেলারি ডাঁটা ৪টি, ১টি গোটা শসা, ১টি সবুজ আপেল, অল্প পালং শাক, ১টি টুকরো লেবু।
সব উপকরণ একসঙ্গে জুস করে নিন। খালি পেটে এই জুস দিনে ২ বার খান। টানা ২ দিনেই যথেষ্ট। 

সত্যিই কি এই জুস খেলে ৪ কেজি ওজন কমে? এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের মতামত, এই জুস ওজন কমানো স্থায়ী মেদ ঝরানোর জন্য নয়, বরং শরীর থেকে অতিরিক্ত জল বেরিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে বেশি কার্যকরী। তাই ওজন কমলেও সেটি সাময়িক। তবে যাদের কিডনি সমস্যা, লো ব্লাড প্রেশার বা ইলেক্ট্রোলাইটের সমস্যা রয়েছে, তাদের এই জুস খাওয়ার আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। দীর্ঘদিন ডিটক্স জুস খেয়ে যাওয়া ঠিক নয়। একইসঙ্গে মাথা ঘোরা, দুর্বলতা বা অস্বস্তি হলে সঙ্গে সঙ্গে খাওয়া বন্ধ করা উচিত। 

সেলারি ও শসার জুস সাময়িকভাবে শরীরের ফোলা ভাব কমাতে সাহায্য করতে পারে ঠিকই, তবে এটি কোনও ম্যাজিক ড্রিঙ্ক নয়। স্থায়ীভাবে সুস্থ ও ফিট থাকতে হলে কম নুন খাওয়া, পর্যাপ্ত জল খাওয়া, নিয়মিত হাঁটা বা শরীরচর্চা করা, সুষম খাবার খাওয়া প্রয়োজন।

&t=172s