অনেকেই মনে করেন, স্ট্রেস মানে শুধু মানসিক চাপ। কিন্তু আসলে দীর্ঘদিনের উদ্বেগ শরীরের উপরেও গভীর প্রভাব ফেলে। এক ব্যক্তি সম্প্রতি নিজের অভিজ্ঞতা শেয়ার করে জানিয়েছেন, তাঁর থেরাপিস্ট তাঁকে দিনে ২০ বার পায়ের আঙুল চেপে ধরতে বলেছিলেন। প্রথমে বিষয়টি হাস্যকর মনে হলেও, কয়েকদিন পর তিনি শরীর ও মনের বদল স্পষ্টভাবে টের পান।


বিশেষজ্ঞদের মতে, স্ট্রেস শুধু মনের মধ্যে আটকে থাকে না, তা শরীরের মধ্যেও জমে থাকে। দীর্ঘ সময় মানসিক চাপ থাকলে আমাদের স্নায়ুতন্ত্র সবসময় সতর্ক অবস্থায় থাকে। ফলে পেশি শক্ত হয়ে যায়, শ্বাস-প্রশ্বাস অগভীর হয়ে পড়ে এবং মাথায় একই ধরনের নেতিবাচক চিন্তা ঘুরতে থাকে।


এই অবস্থায় ছোট ছোট শারীরিক নড়াচড়া আশ্চর্যজনকভাবে কাজে দিতে পারে। যেমন ধীরে ধীরে পায়ের আঙুল চেপে ধরা বা পেশি সচেতনভাবে সংকুচিত করা। এতে শরীর থেকে মস্তিষ্কে বিশেষ সংকেত পৌঁছায়, যা মনোযোগকে অতিরিক্ত চিন্তা থেকে সরিয়ে শরীরের অনুভূতির দিকে নিয়ে আসে। ফলে ধীরে ধীরে মন শান্ত হতে শুরু করে।


মনোবিদরা এই পদ্ধতিকে বলেন 'সোমাটিক গ্রাউন্ডিং'। অর্থাৎ শরীরের মাধ্যমে মনকে স্থির করার কৌশল। গবেষণায় দেখা গিয়েছে, ধীর ও সচেতন পেশি সঞ্চালন স্নায়ুতন্ত্রের ভারসাম্য ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করতে পারে। এতে উদ্বেগ কমে, শরীরের টান হালকা হয় এবং মানুষ বর্তমান মুহূর্তে বেশি মনোযোগ দিতে পারে।


শুধু পায়ের আঙুল নয়, হাত মুঠো করে ধরা, গভীর শ্বাস নেওয়া, কাঁধ ধীরে ঘোরানো বা মাটিতে পা অনুভবও একইভাবে কাজে দেয়। এই ছোট ছোট ব্যায়াম শরীরকে নিরাপত্তার সংকেত দেয়। ফলে মস্তিষ্কও ধীরে ধীরে শান্ত হয়।


বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সব সমস্যার সমাধান হয়তো এতে হবে না, কিন্তু মানসিক চাপ সামলাতে এটি কার্যকর একটি সহজ উপায় হতে পারে। অনেক সময় অতিরিক্ত চিন্তা থামানোর দ্রুততম পথ হল শরীরকে নড়াচড়া করানো। কারণ মন আর শরীর একে অপরের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িয়ে রয়েছে।