হান্টাভাইরাস নিয়ে নতুন একটি গবেষণা বিশ্বজুড়ে চিকিৎসক ও বিজ্ঞানীদের উদ্বেগ বাড়িয়েছে। গবেষণায় বলা হয়েছে, এই ভাইরাস মানুষের শরীরের প্রজননতন্ত্রে অনেক বছর পর্যন্ত লুকিয়ে থাকতে পারে। এমনকী সংক্রমণ সেরে যাওয়ার প্রায় ছয় বছর পরেও একজন ব্যক্তির বীর্যে ভাইরাসের চিহ্ন পাওয়া গিয়েছে। এই তথ্য সামনে আসার পর থেকেই নতুন করে সতর্ক হচ্ছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

হান্টাভাইরাস একটি বিরল ভাইরাসজনিত সংক্রমণ যা সাধারণত ইঁদুর বা সংক্রামিত প্রাণীর মল, প্রস্রাব বা লালার সংস্পর্শে ছড়ায়। এই ভাইরাসে জ্বর, শ্বাসকষ্ট, শরীরে ব্যথা, কিডনি ও ফুসফুসের গুরুতর সমস্যা দেখা দিতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে রোগটি প্রাণঘাতীও হতে পারে।

সম্প্রতি বিজ্ঞানীরা ৫৫ বছর বয়সি এক ব্যক্তিকে পরীক্ষা করে দেখেন, সংক্রমণের ৭১ মাস পরেও তাঁর বীর্যে হান্টাভাইরাসের আরএনএ রয়েছে। অর্থাৎ ভাইরাসের জিনগত চিহ্ন এখনও শরীরে থেকে গিয়েছে। তবে আশ্চর্যের বিষয় হল, তাঁর রক্ত, প্রস্রাব বা শ্বাসযন্ত্রে ভাইরাসের কোনও উপস্থিতি পাওয়া যায়নি। এতে গবেষকদের ধারণা, পুরুষের অণ্ডকোষ ভাইরাসের জন্য এক ধরনের 'নিরাপদ আশ্রয়স্থল' হিসেবে কাজ করতে পারে।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, শরীরের কিছু অংশে রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা খুব বেশি সক্রিয় থাকে না। ফলে ভাইরাস সেখানে দীর্ঘদিন লুকিয়ে থাকতে পারে। ইবোলা ও জিকা ভাইরাসের ক্ষেত্রেও আগে এমন ঘটনা দেখা গিয়েছিল। তাই হান্টাভাইরাস নিয়েও এখন একই ধরনের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

সবচেয়ে বড় উদ্বেগের কারণ হল 'অ্যান্ডিজ ভাইরাস'।  এটি হান্টাভাইরাসের এমন একটি ধরন, যা মানুষ থেকে মানুষে ছড়াতে পারে। গবেষকরা এখনও নিশ্চিত নন, এত বছর পরে পাওয়া ভাইরাসের চিহ্ন আদৌ সংক্রামক কিনা। অর্থাৎ যৌন সম্পর্কের মাধ্যমে তা অন্যের শরীরে ছড়াতে পারে কিনা, তা এখনও প্রমাণিত হয়নি। কিন্তু সম্ভাবনাকে উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

এই কারণেই বিশেষজ্ঞরা পুরুষ রোগীদের অতিরিক্ত সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন। কন্ডোম ব্যবহার, নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং বীর্য পরীক্ষা করার কথাও পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। আগে যেখানে সংক্রমণের পরে ৪২ দিন সতর্ক থাকাই যথেষ্ট মনে করা হত, এখন সেই সময়সীমা আরও বাড়ানো হতে পারে।

তবে চিকিৎসকরা সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত না হওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন। কারণ এই গবেষণা এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। ভাইরাস সত্যিই যৌন সম্পর্কে ছড়াতে পারে কিনা, তা জানতে আরও পরীক্ষা ও গবেষণা প্রয়োজন। তবুও এই আবিষ্কার ভবিষ্যতে হান্টাভাইরাস মোকাবিলার নিয়ম ও চিকিৎসা পদ্ধতিতে বড় পরিবর্তন আনতে পারে।