সুস্থ থাকতে হলে কি সত্যিই দামি প্রোটিন পাউডার, সাপ্লিমেন্ট বা বিদেশি সুপারফুড দরকার? অভিনেত্রী তমন্না ভাটিয়ার ফিটনেস ট্রেনারের মতে, একেবারেই না। বরং আপনার রান্নাঘরেই রয়েছে এমন একটি খাবার, যা খুব কম দামে পাওয়া যায় এবং শরীরের জন্য দারুণ উপকারী।
তমন্না ভাটিয়ার ফিটনেস ট্রেনার সিদ্ধার্থ সিংহ সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় এক ভিডিওতে জানিয়েছেন, রান্নাঘরের সবচেয়ে অবহেলিত কিন্তু সবচেয়ে কার্যকর সুপারফুড হল হলুদ। তাঁর কথায়, প্রতিদিনের রান্নায় যে হলুদ আমরা ব্যবহার করি, সেটি ঠিকভাবে খেলে শরীরের বহু সমস্যার সমাধান হতে পারে।
সিদ্ধার্থ বলেন, “সব ভাল জিনিসই যে দামি হবে, তা নয়। হলুদ এমন একটি প্রাকৃতিক উপাদান, যা শরীরের ভেতর থেকে কাজ করে।” হলদের মধ্যে থাকা কারকিউমিন নামের একটি উপাদান শরীরের প্রদাহ বা ইনফ্লেমেশন কমাতে সাহায্য করে। আজকাল অনেকে জয়েন্টের ব্যথা, পেশির ব্যথা, ক্লান্তি বা হজমের সমস্যায় ভোগেন। এই সব ক্ষেত্রেই হলুদ খুব উপকারী।
তিনি আরও জানান, নিয়মিত হলুদ খেলে হজমশক্তি ভাল থাকে, শরীরে জমে থাকা প্রদাহ কমে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও বাড়ে। তাই হলুদকে অনেক সময় প্রাকৃতিক ওষুধ বা 'ন্যাচারাল স্টেরয়েড'-এর সঙ্গে তুলনা করা হয়।
তবে শুধু হলদ খেলেই হবে না। এর পুরো উপকার পেতে হলে একটি বিষয় মাথায় রাখা জরুরি। সিদ্ধার্থ বলেন, হলুদের সঙ্গে অবশ্যই গোলমরিচ খেতে হবে। কারণ গোলমরিচে থাকা পাইপেরিন নামের উপাদান হলুদের কারকিউমিন শরীরে শোষণ করতে সাহায্য করে। এতে হলুদের কার্যকারিতা অনেক গুণ বেড়ে যায়। এই কারণে অনেকে রাতে হলুদ দুধ খাওয়ার পরামর্শ দেন। আবার কেউ কেউ গরম জলে সামান্য হলুদ ও গোলমরিচ মিশিয়ে পান করেন। এগুলো খুব সহজ, সস্তা এবং ঘরোয়া উপায়।
সিদ্ধার্থের মতে, আজকাল খুব সহজেই দামি সাপ্লিমেন্টের দিকে ঝুঁকে পড়ছেন অনেকে। কিন্তু তার আগে নিজের রান্নাঘরের জিনিসগুলো ঠিকভাবে ব্যবহার করলে অনেক ক্ষেত্রেই আলাদা কিছু দরকার পড়ে না। তবে তিনি এটাও মনে করিয়ে দিয়েছেন, কোনও গুরুতর অসুস্থতা থাকলে বা নিয়মিত ওষুধ খেলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। তাঁর মতে, সুস্থ থাকার চাবিকাঠি অনেক সময় আমাদের হাতের কাছেই থাকে, শুধু সেটা চিনে নেওয়াটাই দরকার।
