পরমা দাশগুপ্ত

শীতের রুক্ষতার মরসুম বিদায় নিচ্ছে গুটি গুটি। ফাল্গুনের শহর জুড়ে এখন ‘বসন্ত এসে গেছে’ গাওয়ার পালা। তবে ক্যালেন্ডার যা-ই বলুক, গরম পড়ে যাবে দেখতে দেখতেই। ব্যস! রোদের চোখরাঙানি, প্যাচপেচে ঘাম আপনার সর্বক্ষণের সঙ্গী! তবে সেই সময়টাতেও যদি ঝলমলে থাকতে চান, ত্বকের চাই অন্য রকম যত্ন। দেরি না করে সেই প্রস্তুতি এখন থেকেই একটু একটু করে শুরু করে দেওয়া ভাল। মার্চ আসতে না আসতেই যে আজকাল রোদে-গরমে টেকা দায় হয়ে পড়ে! 

ত্বকের যত্নে ফেশিয়ালের জুড়ি নেই। তবে শীতে রুক্ষ হয়ে থাকা ত্বককে পুষ্টি জুগিয়ে, আর্দ্রতা দিয়ে তার স্বাভাবিক জেল্লা বজায় রাখতে ঠিক ঠিক ফেশিয়াল বেছে নেওয়া জরুরি। আর তার জন্য চাই বিশেষজ্ঞের পরামর্শ। কিয়ানা’স ক্লিনিকের কর্ণধার অনামিকার কাছে মিলল সেই হালহদিশ। গ্রীষ্মের দিনগুলোর জন্য কোন কোন ফেশিয়ালের পরামর্শ দিচ্ছেন তিনি? কোন ফেশিয়ালেই বা মিলবে কী সুফল? আসুন জেনে নেওয়া যাক বিশদে। 

হাইড্রেটিং অ্যালো প্লাস হায়ালুরনিক ফেশিয়ালঃ গরমের দিনগুলোয় ত্বক আর্দ্রতা হারিয়ে শুষ্ক হয়ে ওঠে। বেশি সময়ে কড়া রোদে কাটালে তাকে নিষ্প্রাণ দেখায় আরও। সেখানেই কার্যকরী এই ফেশিয়াল। এতে থাকা অ্যালোভেরা এবং হায়ালুরনিক অ্যাসিডের যুগলবন্দি ত্বকের গভীরে গিয়ে আর্দ্রতা জোগায়। ত্বকে জলীয় ভারসাম্য বজায় রাখার পাশাপাশি রোদে জ্বালাপোড়া এবং লালচে ভাব দূর করে এনে দেয় আরামের খোঁজ। 

ভিটামিন সি ব্রাইটেনিং ফেশিয়ালঃ ত্বককে পুষ্টি জোগাতে, তার প্রাকৃতিক জেল্লা ফিরিয়ে আনতে ভিটামিন সি-র জুড়ি আছে নাকি?  শীতের দিনগুলোর রুক্ষতা তাকে নিষ্প্রাণ করে তুলেছিল। এবার তাতে প্রাণ ফেরানোর পালা। এ ক্ষেত্রেই উপকারী বন্ধু হয়ে উঠতে পারে ভিটামিন সি ব্রাইটেনিং ফেশিয়াল। ত্বকে দাগছোপ, টোনের তারতম্য কিংবা প্রাণহীন চেহারার মোকাবিলায় তাকে কাজে লাগাতেই পারেন। রোদের কল্যাণে তৈরি হওয়া পিগমেন্টেশন দূর হবে। ত্বকে ফিরবে চেনা লালিত্য। সঙ্গে ঘিরে থাকবে ভরপুর অ্যান্টি অক্সিড্যান্টের সুরক্ষা। 

এনজাইম গ্লো ফেশিয়ালঃতেলতেলে ত্বক বা নিষ্প্রাণ হয়ে পড়া ত্বককে আবার ঝলমলে এবং স্বাস্থ্যোজ্জ্বল করে তুলতে ভরসা রাখতে পারেন এই ফেশিয়ালে। এতে ফ্রুট এনজাইম, গ্লাইকোলিক বা ল্যাকটিক অ্যাসিডের উপস্থিতি মরা কোষ সরিয়ে ত্বকের টেক্সচার সুন্দর করে তোলে। ময়লা জমে বন্ধ হয়ে পড়া ছিদ্রপথ পরিষ্কার হয়ে যাওয়ার ফলে ত্বকও আবার প্রাণভরে শ্বাস নিতে পারে। এনজাইমের পুষ্টিগুণে ফিরে আসে চেনা জেল্লা। তবে হ্যাঁ, ভরা গ্রীষ্মের কড়া রোদের দিনগুলোতে হাই পারসেন্টেজ পিলস ব্যবহার না করাই ভাল।  

কুলিং কিউকাম্বার প্লাস গ্রিন টি ফেশিয়ালঃ সংবেদনশীল ত্বকের বড্ড জ্বালা! একটু রোদ উঠল কি উঠল না, গরম পড়তে না পড়তেই সমস্যায় জেরবার হওয়ার জোগাড়! মুশকিল আসান হতে পারে শশা ও গ্রিন টি-র জমাটি জুটি। তাদের শীতলতার ছোঁয়ায় এই ফেশিয়াল ত্বকের জ্বালাপোড়া ভাব কমায়, হিট র্যাশ বা চুলকানির সমস্যা দূর করে। সেই সঙ্গে এর ভরপুর অ্যান্টি অক্সিড্যান্ট ত্বকে এনে দেয় সজীবতা।

বিশেষজ্ঞের মতে, দু’সপ্তাহ অন্তর ভিটামিন সি ব্রাইটেনিং বা এনজাইম গ্লো ফেশিয়াল করা যেতে পারে। ত্বকে শীতলতার খোঁজে হাইড্রেটিং বা সুদিং ফেশিয়াল করাতে পারেন মাসে একবার। তবে হ্যাঁ, শুধু ফেশিয়াল করলেই হল না কিন্তু। অনামিকা বলছেন, বাড়ি ফেরার পরেও চাই বাড়তি যত্ন। তাঁর কথায়, “ফেশিয়াল করার পরে যথাযথ সুফল পেতে হলে ত্বককে আরও একটু পরিচর্যায় রাখতে হবে। রোদে বেরোতে হলে তাই অবশ্যই ব্যবহার করুন ব্রড স্পেকট্রাম এসপিএফ ৩০ সানস্ক্রিন। দু’তিন ঘণ্টা অন্তর তা মেখে নিতে হবে। ত্বকের আর্দ্রতা এবং জেল্লা ঠিকমতো বজায় রাখতে নিয়মিত ব্যবহার করুন হাইড্রেটিং সেরাম ও অ্যান্টি অক্সিড্যান্ট সেরাম। এ ছাড়া মুখ পরিষ্কারের জন্য কড়া স্ক্রাবের বদলে মৃদু ধাঁচের ক্লেনজার ব্যবহার করতে হবে। এতে আপনার ত্বক তার মোলায়েম ভাব ধরে রাখতে পারবে।”  

চন্দ্রবিন্দু তো কবেই গেয়েছিল। এবারে আপনিও বরং ত্বকের যত্ন নিন। আর দেখুন কেমন ঝলমলে দেখায় সর্বনেশে গ্রীষ্মর দিনগুলোতেও!