থেকে থেকেই পেটে ব্যথা হয়? বা ৭-৮ ঘণ্টা ঘুমানোর পর বা সেই অর্থে কোনও কাজ না করলেও শরীর থেকে ক্লান্তি যায় না? এটা কিন্তু হতে পারে এক মারণ রোগের লক্ষণ। ফলে সামান্য উপসর্গ ভেবে একদমই অবহেলা করবেন না। কীসের লক্ষণ? কোলন ক্যানসার। 

আমেরিকান ক্যানসার সোসাইটির ২০২৬ সালের রিপোর্টে জানানো হয়েছে একদিকে যখন ফুসফুস, স্তন, মস্তিষ্কের ক্যানসার কমছে, অন্যদিকে তেমন ভাবেই লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে কোলন ক্যানসারে আক্রান্তের সংখ্যা। আর এই রোগ মূলত ৫০ বছরের কম বয়সীদের মধ্যেই দেখা যাচ্ছে। 

বর্তমানে তাই চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন এই রোগের নির্দিষ্ট কিছু লক্ষণ রয়েছে, যেগুলো ভীষণ সাধারণ হলেও উপেক্ষা করা উচিত নয়। কী কী সেগুলো জেনে নিন। 

দ্রুত ওজন কমে যাওয়া: হঠাৎ কোনও কারণ ছাড়াই যে দ্রুত গতিতে ওজন কমে তাহলে জানবেন বিষয়টা মোটেই স্বাভাবিক নয়। এটা বরং একটা সংকেত। খাওয়া দাওয়া স্বাভাবিক থাকার পরও যদি ওজন লাগাতার কমতে থাকে তাহলে সেটা অবশ্যই চিন্তার কারণ। 

ক্লান্তি: লাগাতার যদি ক্লান্ত লাগে সেটাও কিন্তু একটা লক্ষণ হতে পারে কোলন ক্যানসারের। ঘুম থেকে ওঠা বা সারা দিন প্রায় কিছু না করার পরও যদি ক্লান্ত লাগে তাহলে সেটার দিকে খেয়াল করুন। ব্যস্ত জীবন, দৌড়ঝাঁপ হলে ক্লান্তি আসবেই, কিন্তু আরাম আয়েশে থাকার পরও সেটা হলে, কমজোর লাগলে সেটাকে অবহেলা না করে বরং দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যান। 

মলত্যাগে অসুবিধা: মলের সঙ্গে রক্ত পড়া কিন্তু কোলন ক্যানসারের লক্ষণ হতে পারে। পাইলসের সমস্যা ভেবে অনেকেই এটাকে উপেক্ষা করে যান। কিন্তু এরপর যদি কখনও মলের সঙ্গে রক্ত পড়ে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যান। এছাড়াও যদি হঠাৎ করে মলত্যাগের অভ্যাসে বদল আসে তাহলে সচেতন হন। 

পেট ব্যথা: থেকে থেকে পেট ব্যথা হওয়া, আবার নিজে থেকেই সেটা সেরে যাওয়াকে অবহেলা করবেন না। ভাবতে পারেন গ্যাস, অম্বলের জন্য হয়তো হচ্ছে। কিন্তু সেটা আসল কারণ নাও হতে পারে। 

শরীর কখন কোন সংকেত দেয় সেটা বাইরে থেকে সবসময় বোঝা যায় না। তাই সামান্য লক্ষণ যদি অল্প সময় বারবার দেখা দেয় সেটাকে উপেক্ষা না করে বরং নজর দিন। ফেলে না রেখে সঠিক চিকিৎসা করান।