ইন্টারনেটে নিজের আসল পরিচয় লুকিয়ে রাখা এখনকার দিনে প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ছে। অনেকে মনে করেন, একটি ছদ্মনাম বা ভুয়া ছবি ব্যবহার করলেই কেউ চিনতে পারবে না, কিন্তু আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) এই ধারণা পুরোপুরি বদলে দিয়েছে।
মানুষের আঙুলের ছাপ যেমন অনন্য, তার লেখার ধরণ বা স্টাইলও অনেকটা সেরকম। আপনি যখন কোনও কমেন্ট করেন বা পোস্ট লেখেন, তখন অজান্তেই কিছু নির্দিষ্ট শব্দ বারবার ব্যবহার করেন বা নির্দিষ্টভাবে বাক্য গঠন করেন। এআই এই 'লিখনশৈলী' বিশ্লেষণ করে। ভুয়া প্রোফাইলের লেখার সঙ্গে আসল প্রোফাইলের লেখার মিল খুঁজে বের করে এটি মাত্র কয়েক মিনিটে বলে দিতে পারে যে দুটি অ্যাকাউন্ট আসলে একই ব্যক্তির।
আপনি দিনে কখন ইন্টারনেটে সক্রিয় থাকেন, কোন ধরনের খবর পড়েন বা কোন লিঙ্কে ক্লিক করেন, এই সবকিছুর একটি প্যাটার্ন থাকে। এআই এই প্যাটার্নগুলো পর্যবেক্ষণ করে। যেমন আপনি যদি আপনার আসল অ্যাকাউন্ট এবং ফেক অ্যাকাউন্ট একই ফোন বা কম্পিউটার থেকে ব্যবহার করেন, তবে এআই খুব সহজেই সেই ডিভাইসের ডিজিটাল আইডি শনাক্ত করে ফেলে।
অনেক সময় ফেক প্রোফাইলে অন্য কারও ছবি বা ইন্টারনেটে পাওয়া কোনও সুন্দর দৃশ্য ব্যবহার করা হয়। এআই এখন এতটাই উন্নত যে ছবির ভেতরের লুকানো তথ্য যাকে মেটাডাটা বলে তা থেকে বের করতে পারে ছবিটি কোথায় এবং কখন তোলা হয়েছিল। ছবির পিক্সেল বিশ্লেষণ করে বলে দিতে পারে এটি এআই দিয়ে বানানো নাকি আসল।
আপনার ফেক প্রোফাইলটি কাদের সঙ্গে যুক্ত বা আপনি কোন ধরনের গ্রুপে ঘোরাঘুরি করছেন, তা থেকেও আপনার পরিচয় বের করা সম্ভব। আপনার আসল প্রোফাইলের বন্ধু তালিকার সঙ্গে যদি ফেক প্রোফাইলের কর্মকাণ্ডের সামান্যতম মিল থাকে, তবে এআই সেই সূত্র ধরে আপনার আসল নাম-ঠিকানা খুঁজে বের করে ফেলে।
এআই-এর প্রভাবে যারা ইন্টারনেটে মহিলা বা শিশুদের হেনস্তা করে অথবা ভুয়া খবর ছড়িয়ে অশান্তি তৈরির চেষ্টা করে, তাদের খুব দ্রুত আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে। সাইবার অপরাধ দমনে এটি একটি শক্তিশালী অস্ত্র। আবার অন্যদিকে, অনেকে নিরাপত্তার খাতিরে বা ব্যক্তিগত কারণে নিজের নাম প্রকাশ করতে চান না। এই প্রযুক্তির কারণে তাদের গোপনীয়তা নষ্ট হতে পারে। সাধারণ মানুষের ওপর কড়া নজরদারি চালানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে।
প্রযুক্তির এই যুগে আমরা ডিজিটাল দুনিয়ায় যা কিছু করছি, তার প্রতিটি পদক্ষেপের চিহ্ন থেকে যাচ্ছে। তাই ইন্টারনেটে নিজেকে আড়াল করার চেয়ে সচেতনভাবে এবং দায়িত্বশীলতার সঙ্গে থাকাই এখন সবথেকে নিরাপদ উপায়।















