ডিজিটাল পেমেন্ট এখন দৈনন্দিন জীবনের অংশ। ইউপিআই বা বিভিন্ন মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে মুহূর্তে টাকা লেনদেন হচ্ছে। কিন্তু এই দ্রুততার সঙ্গেই বাড়ছে এক নতুন ঝুঁকি—ডিজিটাল জালিয়াতি, যা এখন আগের তুলনায় অনেক বেশি পরিকল্পিত ও বিপজ্জনক।
2
9
প্রায় প্রত্যেকের পরিচিত বৃত্তেই এমন ঘটনা শোনা যাচ্ছে—কেউ অনলাইনে কিছু কিনতে গিয়ে টাকা হারাচ্ছেন, কেউ বিক্রি করতে গিয়ে প্রতারিত হচ্ছেন, আবার কেউ অজান্তেই ব্যক্তিগত তথ্য শেয়ার করে ফেলছেন। কয়েক মিনিটের মধ্যেই অ্যাকাউন্ট খালি হয়ে যাচ্ছে। লেনদেনটি প্রথমে স্বাভাবিক মনে হলেও, পরে বোঝা যাচ্ছে সবটাই ছিল ফাঁদ।
3
9
এই প্রবণতার পেছনে বড় ভূমিকা নিচ্ছে প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতি। বিশেষ করে এআই ব্যবহার করে এখন ভুয়ো মেসেজ, পরিচয় এমনকি কণ্ঠস্বর পর্যন্ত তৈরি করা সম্ভব হচ্ছে। ফলে সাধারণ মানুষের পক্ষে আসল আর নকল আলাদা করা ক্রমশ কঠিন হয়ে উঠছে।
4
9
আরবিআই-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে ভারতে ব্যাঙ্ক জালিয়াতির পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৬,০১৪ কোটি টাকায়, যা আগের বছরের প্রায় তিনগুণ। যদিও মোট ঘটনার সংখ্যা কিছুটা কমেছে, কিন্তু প্রতিটি ঘটনায় ক্ষতির পরিমাণ অনেক বেশি।
5
9
আরও বিস্তৃতভাবে দেখলে সমস্যা আরও স্পষ্ট হয়। সংসদে পেশ করা তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের প্রথম ১০ মাসেই দেশে প্রায় ২৪ লক্ষ ডিজিটাল জালিয়াতির ঘটনা ঘটেছে, যেখানে মোট ক্ষতির পরিমাণ ৪,২০০ কোটিরও বেশি। অর্থাৎ, কম সংখ্যক বড় জালিয়াতির পাশাপাশি অসংখ্য ছোট প্রতারণাও সমান্তরালে চলছে।
6
9
বিশেষজ্ঞদের মতে, এখন জালিয়াতির ধরন বদলে গেছে। আগে যেখানে ছোট অঙ্কের প্রতারণা বেশি দেখা যেত—যেমন ওটিপি শেয়ারিং, ফিশিং লিঙ্ক বা ভুয়ো কল—এখন অপরাধীরা বড় অঙ্কের টার্গেটের দিকে নজর দিচ্ছে। অর্থাৎ কম সংখ্যক ঘটনায় বেশি টাকা হাতানোর কৌশল নিয়েছে তারা।
7
9
এই প্রেক্ষাপটে “মিউল অ্যাকাউন্ট” বা ভুয়ো লেনদেনের অ্যাকাউন্টের ব্যবহারও বেড়েছে। এগুলি সাধারণ ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট, যেগুলি ব্যবহার করা হয় চুরি করা টাকা দ্রুত এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় সরানোর জন্য। অনেক সময় অ্যাকাউন্টধারী নিজেই জানেন না যে তার অ্যাকাউন্ট এই কাজে ব্যবহার হচ্ছে। ফলে টাকা একবার ঢুকে গেলে তা দ্রুত বিভিন্ন স্তরে ঘুরিয়ে দেওয়া হয়, যা ট্র্যাক করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে।
8
9
ডিজিটাল ঋণের ক্ষেত্রেও নতুন ধরনের প্রতারণা দেখা যাচ্ছে। “লোন স্ট্যাকিং” নামে পরিচিত এই পদ্ধতিতে খুব অল্প সময়ের মধ্যে একাধিক অ্যাপ থেকে ঋণ নিয়ে নেওয়া হয়, সিস্টেম বুঝে ওঠার আগেই। এর ফলে বড় অঙ্কের ক্ষতি হয় আর্থিক প্রতিষ্ঠানের।
9
9
সব মিলিয়ে স্পষ্ট, ডিজিটাল জালিয়াতি কমেনি—বরং আরও বুদ্ধিদীপ্ত ও জটিল হয়েছে। তাই সচেতনতা এখন সবচেয়ে বড় প্রতিরক্ষা। কোনও সন্দেহজনক লিঙ্কে ক্লিক না করা, এটিপি বা ব্যক্তিগত তথ্য শেয়ার না করা এবং প্রতিটি লেনদেনের আগে যাচাই করা—এই সহজ নিয়মগুলিই পারে বড় ক্ষতি থেকে রক্ষা করতে।