আজকাল ওয়েবডেস্ক: বাইরে থেকে দেখতে স্পা। কিন্তু ভেতরে চলত মধুচক্র। পাটনার অভিজাত এলাকার ফ্রেজার রোডে ‘সুকুন স্পা’ নামে একটি স্পা সেন্টারে হানা দিয়ে এমনটাই জানতে পারল পুলিশ। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার অভিযান চালানো হয় ওই স্পা সেন্টারে। উদ্ধার করা হয়েছে দু’জন নাবালিকা কিশোরীকে। গ্রেফতার করা হয়েছে স্পার মালকিন ও এক পুরুষ কর্মীকে। পুলিশ সূত্রে খবর, ইতিমধ্যেই উদ্ধার হয়েছে বহু আপত্তিকর সামগ্রী এবং ডিজিটাল তথ্যপ্রমাণ।
আরও পড়ুন: ১২ কেজির বিশাল স্তন! ফিট হয় না কোনও জামা! কেন এমন হল? তরুণীর কষ্ট শুনলে চোখে জল আসবে
অভিযোগ, বিগত কয়েক মাস ধরে ওই স্পা-তে নতুন মেয়েদের আনাগোনা নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মনে সন্দেহ দানা বাঁধছিল। সেই সূত্র ধরেই তদন্তে নামে পুলিশ। অবশেষে বৃহস্পতিবার বিকেলে ফ্রেজার রোডের ওই স্পা-তে অভিযান চালানো হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান অনুযায়ী, স্পার ভিতরে একাধিক বিছানা পাতা ছিল। ফলে পুলিশের সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয়। তল্লাশি চালিয়ে উদ্ধার করা হয় প্রচুর কনডোমের প্যাকেট এবং আরও কিছু আপত্তিকর সামগ্রী। নমুনা সংগ্রহের জন্য এসে ফরেনসিক দল। তল্লাশির পর ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে সিল করে দেওয়া হয় দোকানটি।
গোটা ঘটনায় যে বিষয়টি চমকে দেওয়ার মতো সেটি হল প্রযুক্তির ব্যবহার। প্রাথমিক তদন্তের পর পুলিশের দাবি, গ্রাহকদের আকৃষ্ট করতে স্পার মালকিন নুতনের মোবাইলে পাওয়া গেছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই)-তে তৈরি হওয়া মডেলদের ছবি। ওইসব ছবি গ্রাহকদের হোয়াটসঅ্যাপে পাঠানো হত। যোগাযোগ রাখা হত একটি অ্যাপের মাধ্যমে। দুপক্ষের সম্মতিতে পাকা হত ‘ডিল’।
আরও পড়ুন: ১২ কেজির বিশাল স্তন! ফিট হয় না কোনও জামা! কেন এমন হল? তরুণীর কষ্ট শুনলে চোখে জল আসবে

পুলিশের আরও অভিযোগ, স্পার ভিতরে প্রথমে গ্রাহকদের সাধারণ মালিশ বা বিউটি ট্রিটমেন্টের প্রস্তাব দেওয়া হত। সাধারণ মালিশ বলতে বোঝানো হত ‘হাফ ম্যাসাজ’। আর ‘ফুল ম্যাসাজ’ মানেই ছিল যৌন পরিষেবা। হাফ ম্যাসাজের জন্য খরচ ২,০০০ টাকা, ফুল ম্যাসাজের জন্য ৩,৫০০ টাকা। এমনকী গ্রাহকদের সামনে মেয়েদের ‘প্যারেড’ করানো হত বলেও অভিযোগ, যাতে নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী মেয়ে বেছে নিতে পারেন তাঁরা।
তদন্তকারী অফিসার রাজন কুমার জানিয়েছেন, প্রায় এক বছর ধরে গোপনে পরিচালিত হচ্ছিল এই চক্র। প্রায় প্রতিদিনই নতুন গ্রাহক এবং নতুন মেয়েদের আনাগোনা ছিল ওই স্পায়। তাতেই প্রতিবেশীদের নজরে আসে বিষয়টি। গ্রেফতার হওয়া মালকিন নুতন নালন্দার হিলসা এলাকার বাসিন্দা। পুলিশের দাবি, তাঁর স্বামী একজন কৃষক। তিনি নিজে নয়ডা থেকে বিউটিশিয়ান কোর্স করে আসেন। তার পর মাসে ২৮ হাজার টাকায় ওই স্পার ঘরটি ভাড়া নেন নুতন। উদ্ধার হওয়া দুই নাবালিকা জানিয়েছে, তাদের বিউটিশিয়ান প্রশিক্ষণ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে নিয়ে আসা হয়। কিন্তু বাস্তবে দিনের পর দিন তাদের উপর চলে অমানবিক যৌন শোষণ।
ঘটনায় পকসো আইনে এবং অশ্লীল কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা রুজু হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তদের মোবাইল ফোন থেকে পাওয়া চ্যাট, ছবি এবং ফোন নম্বরের মাধ্যমে আরও বেশ কয়েকজন অভিযুক্তকে শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। একইসঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে, এই স্পার অন্য কোনও শাখা রয়েছে কি না।