সকালের শুরু হোক বা রাত জেগে কাজ, ধোঁয়া ওঠা চা বা কফি অনেকেরই নিত্যসঙ্গী। শীতকালে তো আরও বেশি করে গরম পানীয়ের দিকে ঝোঁক বাড়ে। কিন্তু জানেন কি, এই খুব গরম চা-কফি পান করার অভ্যাসই ভবিষ্যতে ডেকে আনতে পারে ভয়ংকর বিপদ? চিকিৎসক ও গবেষকদের মতে, নিয়মিত খুব গরম পানীয় পান করলে খাদ্যনালীর ক্যানসারের ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে।


খাদ্যনালী হল মুখ থেকে পাকস্থলী পর্যন্ত থাকা একটি নরম নল, যার ভেতরের পর্দা অত্যন্ত সংবেদনশীল। খুব গরম কিছু খেলেই সেখানে হালকা পোড়া বা ক্ষত তৈরি হয়। সাধারণভাবে শরীর নিজে থেকেই এই ক্ষত সারিয়ে নেয়। কিন্তু সমস্যা তখনই শুরু হয়, যখন এই পোড়া বারবার হতে থাকে।


গবেষণায় দেখা গিয়েছে, যারা প্রতিদিন ধোঁয়া ওঠা চা, কফি বা স্যুপ পান করেন, তাদের খাদ্যনালীর ভেতরে বারবার তাপজনিত আঘাত লাগে। এর ফলে সেখানে দীর্ঘদিন ধরে জ্বালা ও প্রদাহ তৈরি হয়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই ক্ষতিগ্রস্ত জায়গার কোষগুলোর স্বাভাবিক গঠন বদলাতে শুরু করে, যা একসময় ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।


চিকিৎসকদের মতে, এখানে চা বা কফির উপাদান দায়ী নয়। আসল সমস্যা হল অতিরিক্ত তাপমাত্রা। বিশেষ করে ৬৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি গরম পানীয় নিয়মিত পান করলে ঝুঁকি অনেকটাই বেড়ে যায়। যারা পানীয় ঠান্ডা হওয়ার আগেই তাড়াহুড়ো করে খেয়ে নেন, তাদের ক্ষেত্রে এই আশঙ্কা আরও বেশি। এই ঝুঁকি আরও বাড়ে যদি কারও ধূমপানের অভ্যাস থাকে, অতিরিক্ত মদ্যপান করেন, দীর্ঘদিনের অ্যাসিডিটির সমস্যা থাকে বা খুব ঝাল ও গরম খাবার বেশি খান। এই সব অভ্যাস একসঙ্গে থাকলে খাদ্যনালীর ক্ষতি দ্রুত হয়।


বিশেষজ্ঞদের মতে, সচেতন হলেই এই বিপদ অনেকটাই এড়ানো সম্ভব। চা বা কফি বানানোর পর অন্তত ২–৩ মিনিট অপেক্ষা করা উচিত। ধোঁয়া ওঠা অবস্থায় পান না করে হালকা গরম অবস্থায় ছোট ছোট চুমুক দিয়ে খাওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ। গলা বা বুকে জ্বালাভাব লাগলে গরম পানীয় এড়িয়ে চলা জরুরি।