দাঁত পড়ে গেলে বা ক্ষতিগ্রস্ত হলে এখনও পর্যন্ত আমাদের ভরসা ইমপ্ল্যান্ট, রুট ক্যানালের মতো চিকিৎসা। তবে ভবিষ্যতে এই ছবিটা বদলে যেতে পারে। দক্ষিণ কোরিয়ার বিজ্ঞানীরা এমন এক নতুন প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছেন, যা শরীরের নিজের ক্ষমতাকেই কাজে লাগিয়ে নতুন দাঁত গজাতে সাহায্য করতে পারে।
গবেষণায় উঠে এসেছে ‘বায়োঅ্যাকটিভ প্যাচ’ নামের এক অভিনব ধারণা। এই বিশেষ ধরনের প্যাচে এমন কিছু বায়োম্যাটেরিয়াল ও গ্রোথ ফ্যাক্টর ব্যবহার করা হচ্ছে, যা মাড়ি ও দাঁতের আশপাশে থাকা স্টেম সেলকে সক্রিয় করে। এই স্টেম সেলগুলোই মূলত নতুন টিস্যু তৈরি করতে সক্ষম। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত দাঁতের অংশ যেমন ডেন্টিন, এনামেল বা দাঁতের সহায়ক টিস্যু আবার স্বাভাবিকভাবে তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে।
সহজ করে বললে, এই প্রযুক্তির লক্ষ্য হল শরীরের নিজস্ব ‘রিপেয়ার সিস্টেম’কে জাগিয়ে তোলা। বাইরে থেকে কৃত্রিম দাঁত বসানোর বদলে, নিজের শরীরই নতুন দাঁত তৈরি করে নিতে পারবে, এটাই এই গবেষণার মূল উদ্দেশ্য। যদি এটি সফল হয়, তাহলে দাঁতের চিকিৎসায় এক বড় বিপ্লব ঘটতে পারে।
এখনও পর্যন্ত ল্যাবরেটরি এবং কিছু প্রাণীর ওপর পরীক্ষায় আশাব্যঞ্জক ফল পাওয়া গিয়েছে। দেখা গিয়েছে, এই বায়োঅ্যাকটিভ প্যাচ ব্যবহার করলে নতুন টিস্যু গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয় এবং ক্ষতিগ্রস্ত অংশ কিছুটা হলেও পুনর্গঠিত হতে পারে। তবে এখানেই শেষ নয়, মানুষের শরীরে এই প্রযুক্তি কতটা নিরাপদ ও কার্যকর, তা জানার জন্য আরও অনেক পরীক্ষা প্রয়োজন।
গবেষকরা জানিয়েছেন, এই পদ্ধতি এখনও পরীক্ষামূলক পর্যায়ে রয়েছে। মানবদেহে ব্যবহারের আগে একাধিক ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল করা জরুরি, যাতে এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব, নিরাপত্তা এবং কার্যকারিতা নিশ্চিত করা যায়। তাই এখনই এটি সাধারণ চিকিৎসায় ব্যবহার শুরু হবে না।
তবুও আশা করা যায়, আগামী কয়েক বছরে এই প্রযুক্তি আরও উন্নত হবে এবং একসময় হয়তো দাঁত পড়া বা নষ্ট হওয়ার সমস্যার স্থায়ী সমাধান নিয়ে আসবে। তখন হয়তো নতুন দাঁত গজানো হবে একেবারেই স্বাভাবিক চিকিৎসা।















