আজকাল ওয়েব ডেস্কঃ নিরামিষ ডাল, তরকারিতে ফোড়ন হিসেবে মৌরি ব্যবহার করা হয়। পেটের গোলমালে মৌরি মিছরির জল দারুন উপকারি। পেঁয়াজ, রসুনের খাবার খেয়ে মুখের দূর্গন্ধ যেতে না চাইলে বা পান মশলা ও মুখ শুদ্ধি হিসেবে মৌরির জুরি নেই। তবে এর রয়েছে আরও অনেক গুনাগুন। 

হজম ক্ষমতাকে শক্তিশালী করে এই মশলা। কোষ্ঠকাঠিন্য, বদহজম ও পেট ফাঁপার মতো সমস্যায় মৌরি ভীষন উপকারি। মৌরিতে রয়েছে অ্যান্টি-ব্যাক্টিরিয়াল উপাদান, যা পেটের সমস্যা কমাতে সহায়তা করে। এমনকি, পেটে কোনও সংক্রমণ হলে বাঁচাতে পারে মৌরি। পেটগরম হয়ে গেলে শরীর ঠান্ডা করতে মৌরি-মিছরির জল খাওয়ার চল অনেক আগের। এক গ্লাস জলে এক চা চামচ মৌরি ও মিছরি সারা রাত ভিজিয়ে রাখুন। পরের দিন সকালে সেই জল খেলে  উপকার পাবেন দ্বিগুণ।


প্রাকৃতিক মিষ্টি স্বাদ রয়েছে মৌরিতে যা মুখের দূর্গন্ধ কাটাতে অব্যর্থ। এর অ্যান্টিব্যাক্টেরিয়াল উপাদান মুখের দূর্গন্ধ সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়াকে নষ্ট করে এবং নিঃশ্বাসকে তরতাজা করে। 
উচ্চমাত্রায় পটাশিয়াম থাকায় শরীরের অতিরিক্ত সোডিয়ামের খারাপ প্রভাবকে নিয়ন্ত্রণ করে কোন ক্ষতি হতে দেয় না। রোজ একটু মৌরি চিবোতে পারলে ব্লাড প্রেশার নিয়ন্ত্রণে রাখে ও কার্ডিওভাস্কুলার রোগ থেকেও রেহাই পাওয়া যায়। মেটাবোলিজম বাড়িয়ে দেওয়ায় ওজনকে বশে রাখে ও অতিরিক্ত ফ্যাটকে ঝরাতে সাহায্য করে।

মৌরি অ্যান্টিঅক্সিড্যান্টের খনি। প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি সমৃদ্ধ হওয়ায় ফ্রি রেডিক্যালসের সঙ্গে লড়াই করে এবং অক্সিডেটিভ স্ট্রেসকে কমায়।  ফলে ত্বক হয় উজ্জ্বল, বলিরেখা দূর করে কমবয়সী দেখায়। 

ফাইবার থাকায় অনেকক্ষণ পেট ভরা থাকার অনুভূতি হয়। ফলে বেশি বা উল্টোপাল্টা খাওয়া থেকে বিরত থাকা যায়।
মৌরি মানসিক চাপ দূর করতে সাহায্য করে। কর্মজীবনে কিংবা সাংসারিক জীবনে নানা সমস্যা মানসিক স্বাস্থ্যের উপর প্রভাব ফেলে। মৌরি ভেজানো জল স্নায়ুগুলিকে শান্ত রাখে।

বিশেষ করে মৌরিতে ফাইটোএস্ট্রোজেন থাকায় মহিলাদের হরমোনের ভারসাম্য বজায় রাখে। রোজ একটু মৌরি চিবোনোর অভ্যাস করলে মেয়েরা পিরিয়ডের সময়ের যন্ত্রনাকে কম করতে পারে ও নিয়মমাফিক পিরিয়ড হয়।