সুগন্ধি বা বডি স্প্রে আজকাল বেশিরভাগ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অংশ হয়ে উঠেছে। অফিসে হোক বা পার্টি কিংবা সাধারণ ঘরোয়া পরিবেশে নিজেকে সতেজ ও আকর্ষণীয় রাখতে অনেকেই নিয়মিত পারফিউম ব্যবহার করেন। কিন্তু এই অভ্যাস অনেক সময় দীর্ঘস্থায়ী কাশি, হাঁচি, গলা জ্বালা এবং এলার্জির বড় কারণ হয়ে উঠতে পারে। সম্প্রতি এমনই সতর্কবার্তা দিয়েছেন গবেষকরা।
সম্প্রতি চিকিৎসকদের কাছে এক শিশুকে আনা হয়েছিল, যে প্রায় আট মাস ধরে কাশিতে ভুগছিল। শিশুটির একাধিক পরীক্ষা করা হয়। অ্যাজমা, সংক্রমণ, সাইনাস বা অন্য কোনও বড় রোগ-কিছুই ধরা পড়েনি। জ্বর কিংবা শ্বাসকষ্ট নেই, শরীরের বৃদ্ধি স্বাভাবিক। তবুও কাশি সারছিল না। পরে চিকিৎসকরা শিশুটির আশপাশের পরিবেশ খতিয়ে দেখেন।
জানা যায়, শিশুটির কাছের একজন নিয়মিত তীব্র গন্ধের পারফিউম ব্যবহার করতেন। শিশু সেই গন্ধে বারবার শ্বাস নিচ্ছিল। এরপর পারফিউম ব্যবহার বন্ধ করা হলে ধীরে ধীরে কাশি কমতে থাকে এবং কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই শিশুটি পুরোপুরি সুস্থ হয়ে ওঠে। এখান থেকেই চিকিৎসকদের ধারণা আরও স্পষ্ট হয় যে, পারফিউমই ছিল সমস্যার মূল কারণ।
বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, পারফিউমে কেবল সুগন্ধই থাকে না। এতে অ্যালকোহল, নানা ধরনের রাসায়নিক উপাদান থাকে। এগুলো বাতাসে ছড়িয়ে নাক, গলা ও শ্বাসনালীর ভেতরে ঢুকে জ্বালা বা সংবেদনশীলতা তৈরি করে। অনেক সময় এটি সরাসরি এলার্জি না হলেও শ্বাসনালীর উপর বিরূপ প্রভাব ফেলে, যার ফলে দীর্ঘদিনের কাশি শুরু হয়। এই সমস্যা সবচেয়ে বেশি দেখা যায় শিশুদের ক্ষেত্রে। কারণ শিশুদের শ্বাসনালী খুব সংবেদনশীল। এছাড়াও যাঁদের আগে থেকেই অ্যাজমা, সাইনাস, এলার্জি বা শ্বাসকষ্টের সমস্যা রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রেও পারফিউম বড় ট্রিগার হতে পারে।
চিকিৎসকদের মতে, যদি পারফিউম ব্যবহার করার পর কাশি বাড়ে, হাঁচি আসে, গলা চুলকায় বা শ্বাস নিতে অস্বস্তি হয় এবং গন্ধ থেকে দূরে গেলে উপসর্গ কমে যায় তাহলে বুঝতে হবে পারফিউমই সমস্যার কারণ হতে পারে।
এই সমস্যা এড়াতে অতিরিক্ত পারফিউম ব্যবহার না করার পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকরা। বিশেষ করে শিশুদের কাছাকাছি বা বন্ধ ঘরে তীব্র সুগন্ধি ব্যবহার এড়িয়ে চলা উচিত। ঘরে পর্যাপ্ত বাতাস চলাচলের ব্যবস্থাও জরুরি। বিশেষজ্ঞদের মতে, সুন্দর গন্ধের মোহে স্বাস্থ্যের ক্ষতি যেন না হয়, সেদিকে অবশ্যই নজর রাখা দরকার।
