সম্পর্ক ভাল রাখতে শুধু ভালবাসা থাকলেই যথেষ্ট নয়, এমনটাই জানাচ্ছে সাম্প্রতিক এক গবেষণা। গবেষকদের মতে, ভালবাসা প্রকাশ করার অভ্যাস একটি সম্পর্ককে গড়ে তুলতে পারে, আবার ধীরে ধীরে ভেঙেও দিতে পারে। অর্থাৎ দু’জন মানুষ একে অপরকে কীভাবে ভালবাসা বোঝান এবং সেটি কতটা অনুভূত হয়, তার ওপরই সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করে।
গবেষণায় বলা হয়েছে, অনেক দম্পতি কিংবা প্রেমিক-প্রেমিকার মধ্যে গভীর অনুভূতি থাকা সত্ত্বেও সম্পর্ক টেকে না, বিচ্ছেদ হতে দেখা যায়। যার প্রধান কারণ হল ভালবাসা প্রকাশের ধরনে অমিল। কেউ ভালবাসা প্রকাশ করেন কথা দিয়ে, কেউ আবার স্পর্শ বা ছোট ছোট যত্নের মাধ্যমে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পার্থক্যগুলো বোঝা না গেলে সম্পর্কের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়।
ভালবাসা থাকলেও কেন সমস্যা হয়? গবেষকরা জানিয়েছেব, মানুষ শুধু ভালবাসা পেতে চায় না, সে চায় অনুভব করতে। যদি একজন সঙ্গী নিয়মিত ভালবাসা প্রকাশ করেন, আর অন্যজন তেমন না করেন, তাহলে ধীরে ধীরে মনে হতে পারে, “আমাকে বুঝি আর আগের মতো গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না।”
গবেষণায় দেখা গিয়েছে, এই অনুভূতিই সম্পর্কের মধ্যে মানসিক দূরত্ব, ঝগড়া, হতাশা, একে অপরের ওপর বিরক্তি তৈরি করে। অথচ অনেক ক্ষেত্রেই দু’জনের উদ্দেশ্য খারাপ নয়, শুধু অভ্যাস আলাদা হয়।
গবেষকদের মতে, সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে সবচেয়ে জরুরি বিষয় হল সঙ্গীর ভালবাসা প্রকাশের ধরন বোঝা এবং সেটিকে সম্মান করা। নিজের মতো করে ভালবাসা চাইলে চলবে না, বরং সঙ্গী কীভাবে ভালবাসা অনুভব করেন, তাও জানতে হবে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, কেউ কথা ও প্রশংসায় ভালবাসা বোঝেন, কেউ সময় দিয়ে, কেউ আবার ছোট ছোট যত্ন বা সাহায্যের মাধ্যমে। এই পার্থক্যগুলো মেনে নিতে পারলেই সম্পর্ক আরও মজবুত হয়।
গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, দু’জনের অভ্যাস একেবারে একরকম হওয়া জরুরি নয়। কিন্তু একে অপরকে বোঝা খুব প্রয়োজন। যদি একজন বেশি ঘনিষ্ঠতা চান আর অন্যজন কম চান, তাহলে মাঝামাঝি একটি সমাধান খুঁজে নেওয়াই সম্পর্ককে বাঁচিয়ে রাখতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, যখন একজন মানুষ বুঝতে পারেন যে তাঁর সঙ্গী তাঁকে বোঝার চেষ্টা করছেন, তখন সম্পর্কের প্রতি বিশ্বাস ও নিরাপত্তাবোধ অনেকটাই বেড়ে যায়। তাই একে অপরকে বোঝা, সম্মান করা এবং অনুভূতির জায়গায় মিল খুঁজে নেওয়াই একটি সম্পর্ককে দীর্ঘস্থায়ী ও সুখী করে তোলে।
