দেশে দ্রুত কমে যাচ্ছে গাধার সংখ্যা। এই পরিস্থিতিতে গাধা সংরক্ষণ ও গাধা পালনে মানুষকে উৎসাহ দিতে বড় উদ্যোগ নিল কেন্দ্র সরকার। জাতীয় প্রাণিসম্পদ মিশন (এনএলএম)-এর আওতায় গাধা প্রজনন ও খামার তৈরির জন্য মোটা অঙ্কের আর্থিক ভর্তুকি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সরকার জানিয়েছে, এই প্রকল্পে গাধা পালনের জন্য মোট প্রকল্প খরচের ৫০ শতাংশ পর্যন্ত ভর্তুকি দেওয়া হবে। একজন আবেদনকারী সর্বোচ্চ ৫০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত আর্থিক সহায়তা পেতে পারেন।
এই প্রকল্পে ব্যক্তি কৃষক, উদ্যোক্তা, কৃষক উৎপাদক সংগঠন (এফপিও), স্ব-সহায়ক গোষ্ঠী (এসএইচজি), যৌথ দায়বদ্ধতা গোষ্ঠী (জেএলজি), কৃষক সমবায় সংগঠন (এফসিও) এবং সেকশন ৮ কোম্পানি আবেদন করতে পারবে। মূল লক্ষ্য হল গাধা পালনকে একটি সংগঠিত ব্যবসায় পরিণত করা এবং গ্রামীণ এলাকায় নতুন কর্মসংস্থান তৈরি করা।
সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, এই প্রকল্পের পূর্ণ সুবিধা পেতে হলে একটি খামারে কমপক্ষে ৫০টি স্ত্রী গাধা এবং ৫টি পুরুষ গাধা রাখতে হবে। ভর্তুকির টাকা দিয়ে খামারের ঘর বা শেড তৈরি, গাধা কেনা, পশুর বীমা, খাদ্যের ব্যবস্থা, জমি প্রস্তুত করা এবং প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি কেনার মতো খরচ মেটানো যাবে।
এই প্রকল্পের টাকা দুই ধাপে দেওয়া হবে। প্রথম কিস্তি দেওয়া হবে যখন ব্যাঙ্ক থেকে ঋণ অনুমোদন হবে। এরপর খামারের কাজ সম্পূর্ণ হলে দ্বিতীয় কিস্তির টাকা দেওয়া হবে।
সরকারের এই সিদ্ধান্তের পেছনে বড় কারণ হল দেশে গাধার সংখ্যা দ্রুত কমে যাওয়া। সরকারি হিসেব অনুযায়ী, ২০১২ সালের প্রাণিসম্পদ শুমারি-তে দেশে প্রায় ৩.২ লক্ষ গাধা ছিল। কিন্তু ২০১৯ সালের ২০তম প্রাণিসম্পদ শুমারি-তে সেই সংখ্যা কমে প্রায় ১.২৩ লক্ষে নেমে আসে। অর্থাৎ কয়েক বছরের মধ্যে প্রায় ৬১ শতাংশ কমে গেছে গাধার সংখ্যা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষি ও পরিবহণে যন্ত্রের ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় গাধার প্রয়োজন কমেছে। আগে গ্রামাঞ্চল, নির্মাণকাজ এবং ইটভাটায় মালপত্র বহনে গাধা ব্যাপকভাবে ব্যবহার করা হতো। এখন সেই জায়গা নিয়েছে ট্রাক্টর, ছোট ট্রাক ও অন্যান্য যানবাহন। পাশাপাশি শহরায়ণ এবং গাধা চলাচলের জায়গা কমে যাওয়াও গাধার সংখ্যা কমার একটি বড় কারণ।
সরকার মনে করছে, নতুন এই প্রকল্প গাধার সংখ্যা বাড়াতে সাহায্য করবে। একইসঙ্গে পশুপালনের মাধ্যমে গ্রামীণ অর্থনীতিতেও নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে।
