ভারতের কৃষি ব্যবস্থার জন্য নতুন করে উদ্বেগ বাড়াল এল নিনো। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ওশেনিক অ্যান্ড অ্যাটমোস্ফেরিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছে, প্রশান্ত মহাসাগরে এল নিনো পরিস্থিতি শুরু হয়েছে এবং চলতি বছরের শেষের দিকে এটি মাঝারি থেকে শক্তিশালী রূপ নিতে পারে। আবহাওয়াবিদদের একাংশ আবার 'সুপার এল নিনো'-র সম্ভাবনার কথাও জানিয়েছেন।
2
12
এই পরিস্থিতিতে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার কৃষিক্ষেত্রে সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় তৎপর হয়েছে। কৃষি ও কৃষক কল্যাণ মন্ত্রক দেশের ১৫০ থেকে ২০০টি জেলাকে বিশেষ নজরদারির আওতায় এনেছে।
3
12
একই সঙ্গে খরিফ মরসুমের জন্য পুরনো জেলা-ভিত্তিক কৃষি কন্টিনজেন্সি পরিকল্পনা সংশোধনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ভারতীয় কৃষি গবেষণা পরিষদ, রাজ্যের কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এবং কৃষি দফতরগুলিকে আগামী ২০ জুনের মধ্যে নতুন পরিকল্পনা জমা দিতে বলা হয়েছে।
4
12
এর আগে ২৯ মে ভারতীয় আবহাওয়া দফতর জানিয়েছিল, চলতি দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বৃষ্টিপাত দীর্ঘমেয়াদি গড়ের মাত্র ৯০ শতাংশ হতে পারে। অর্থাৎ, স্বাভাবিকের তুলনায় কম বৃষ্টির প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।
5
12
আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রায় ৬০ শতাংশ সম্ভাবনা রয়েছে যে এবছর বর্ষা ঘাটতিপূর্ণ হবে, যার ফলে দেশের বহু অঞ্চলে খরা বা তীব্র জলসংকট দেখা দিতে পারে।
6
12
সরকারি সূত্রের দাবি, শুধু বৃষ্টির পূর্বাভাস নয়, প্রতিটি জেলার সেচ ব্যবস্থা, মাটির ধরন, ভূগর্ভস্থ জলের প্রাপ্যতা এবং ফসলের ধরন বিবেচনা করেই ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলি চিহ্নিত করা হয়েছে।
7
12
বিশেষ করে মহারাষ্ট্রের মারাঠওয়াড়া, উত্তর কর্নাটক, রাজস্থান, গুজরাট, মধ্যপ্রদেশ, ছত্তীসগঢ়, পূর্ব উত্তরপ্রদেশ, বিহার এবং ঝাড়খণ্ডের একাধিক জেলায় পরিস্থিতি বেশি উদ্বেগজনক বলে মনে করা হচ্ছে।
8
12
নতুন কন্টিনজেন্সি পরিকল্পনায় কৃষকদের জন্য ধাপে ধাপে করণীয়ও উল্লেখ থাকবে। বিশেষ করে আগস্ট মাসে যদি পর্যাপ্ত বৃষ্টি না হয়, তাহলে কোন বিকল্প ফসল চাষ করা যেতে পারে, কীভাবে জল সংরক্ষণ করতে হবে এবং কী ধরনের কৃষি প্রযুক্তি ব্যবহার করলে ক্ষতি কমানো সম্ভব—এসব বিষয়ে বিস্তারিত নির্দেশিকা থাকবে।
9
12
এদিকে কৃষি, বাণিজ্য, পরিকল্পনা এবং ICAR-এর প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি আন্তঃমন্ত্রক টাস্ক ফোর্সও গঠন করা হয়েছে। এই কমিটি এল নিনোর প্রভাবে কোন কোন ফসল সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, বিকল্প ফসলের সম্ভাবনা কী এবং প্রয়োজনে কোন দেশ থেকে খাদ্যশস্য আমদানি করা যেতে পারে, তা নিয়ে রিপোর্ট তৈরি করছে।
10
12
বিশেষ উদ্বেগ তৈরি হয়েছে ডাল ও তেলবীজ উৎপাদন নিয়ে। কারণ এই দুই ফসলের প্রায় ৯০ শতাংশই বৃষ্টিনির্ভর জমিতে চাষ হয়। ফলে বর্ষা ব্যাহত হলে উৎপাদনে বড় ধাক্কা লাগতে পারে এবং আমদানির ওপর নির্ভরতা আবার বাড়তে পারে।
11
12
তবে সরকারি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, শক্তিশালী এল নিনো মানেই যে খাদ্য উৎপাদনে বড় বিপর্যয় হবে, এমন নয়। অতীতের অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, উন্নত বীজ, খরা ও তাপ সহনশীল জাত এবং আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির কারণে ভারতের কৃষি ব্যবস্থা আগের তুলনায় অনেক বেশি সক্ষম হয়েছে।
12
12
তবুও স্থানীয় স্তরে খরা, অতিরিক্ত তাপপ্রবাহ, পোকামাকড়ের আক্রমণ এবং রোগবালাইয়ের কারণে ধান, গমসহ বিভিন্ন ফসলের উৎপাদন কমে যেতে পারে। এর প্রভাব পড়তে পারে খাদ্যদ্রব্যের সরবরাহ, বাজারদর এবং মূল্যস্ফীতির ওপর। তাই পরিস্থিতির দিকে নজর রেখে আগাম প্রস্তুতি নেওয়ার ওপরই জোর দিচ্ছে কেন্দ্র।