মাউথওয়াশ মুখ একেবারে জীবাণুমুক্ত রাখে এবং দাঁতের সব সমস্যা দূর করে, এমন ধারণা রয়েছে অনেকের৷ তাই নিয়মিত মাউথওয়াশ ব্যবহারের ঝোঁক দেখা যায়। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ধারণা পুরোপুরি সঠিক নয়। মাউথওয়াশ উপকারী হলেও এটি মূল চিকিৎসা নয়, বরং একটি সহায়ক উপায়।


চিকিৎসকদের মতে, দাঁত ও মাড়ি ভাল রাখতে নিয়মিত ব্রাশ এবং ফ্লস ব্যবহার করাই সবচেয়ে জরুরি। মাউথওয়াশ মুখের দুর্গন্ধ কিছু সময়ের জন্য কমায় এবং কিছু ব্যাকটেরিয়া নষ্ট করে, কিন্তু দাঁতের প্লাক বা জমে থাকা ময়লা সরাতে পারে না। ফলে শুধু মাউথওয়াশ ব্যবহার করে মুখের সম্পূর্ণ যত্ন নেওয়া সম্ভব নয়।


বাজারে মূলত দুই ধরনের মাউথওয়াশ পাওয়া যায়। একটি শুধু মুখের দুর্গন্ধ ঢেকে দেয়, অন্যটি দাঁতের ক্ষয় বা মাড়ির সমস্যা কমাতে সাহায্য করে। তাই প্রয়োজন অনুযায়ী সঠিক মাউথওয়াশ বেছে নেওয়া জরুরি বলে মত বিশেষজ্ঞদের।


অনেকেই মনে করেন, মাউথওয়াশ ব্যবহার করলে মুখের বাজে গন্ধ পুরোপুরি দূর হয়ে যায়। কিন্তু চিকিৎসকদের মতে, এটি সাময়িক সমাধান। যদি দীর্ঘদিন ধরে মুখে দুর্গন্ধ থাকে, তাহলে তা দাঁত বা মাড়ির রোগের লক্ষণ হতে পারে। এমন ক্ষেত্রে দন্তচিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই ভাল।


আরও একটি ভুল ধারণা হল, মাউথওয়াশ ব্যবহার করলে মুখে জ্বালা করলে সেটি বেশি কার্যকর। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, এই জ্বালাভাব আসলে অনেক সময় অ্যালকোহলের জন্য হয়, যা মুখ শুকিয়ে দিতে পারে। তাই এখন অনেকেই অ্যালকোহল-মুক্ত মাউথওয়াশ ব্যবহারের পরামর্শ দেন। 


তবে মাউথওয়াশের কিছু উপকারিতাও রয়েছে। এটি মুখের ব্যাকটেরিয়া কমাতে সাহায্য করে, মাড়ির ফোলা কমাতে পারে এবং কিছু ক্ষেত্রে দাঁতকে মজবুত রাখতেও সহায়তা করে। বিশেষ করে যাঁদের দাঁতে ব্রেস আছে বা মাড়ির সমস্যা বেশি, তাঁদের জন্য এটি উপকারী হতে পারে।


তবে অতিরিক্ত ব্যবহার ক্ষতিকর হতে পারে বলেও সতর্ক করছেন বিশেষজ্ঞরা। এতে মুখের স্বাভাবিক ব্যাকটেরিয়ার ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে এবং অন্য সমস্যা দেখা দিতে পারে।


সবমিলিয়ে, মাউথওয়াশ মুখের যত্নে সাহায্য করলেও এটি কোনও জাদুকরী সমাধান নয়। নিয়মিত ব্রাশ, ফ্লস এবং সঠিক দাঁতের যত্নের সঙ্গে ব্যবহার করলেই মিলবে আসল উপকার।