খুব ছোটবেলায় আলাদা হয়ে গিয়েছিলেন পরিবারের থেকে৷ প্রায় ২০ বছর পর ছেলেটি খুঁজে পেল তাঁর বাবাকে৷ চার বছর বয়সে রেলস্টেশনে বাবাকে হারিয়ে ফেলেছিল ছেলেটি৷ দুই দশক পর খোঁজ পেল চিনে৷ ২০০১ থেকে যে খোঁজ চলছিল সেই খোঁজ শেষ হল ২০২৬ এর মার্চ মাসে৷ ঝাং ইউনপেং নামের ব্যক্তি এত বছর পরে বাবাকে দেখে আপ্লুত৷ বাবাও ছেলেকে ফিরে পেয়ে কাঁদলেন৷ 

হারিয়ে যাওয়ার পরে ছেলেটিকে স্থানীয় পৌরসভায় নিয়ে যাওয়া হয়৷ সেখানেই তার নতুন নামকরণ হয় শেন হুইবাই৷ 

২০০৫ সালে কানাডার এক দম্পতি ছেলেটিকে দত্তক নেয়।  কিন্তু দত্তক নেওয়ার তিন মাস পরেই তাঁদের বিবাহবিচ্ছেদ হয়৷ বিচ্ছেদের কারণে ওই দম্পতির কেউই ছেলেটির দায়িত্ব নিতে চায় না৷ 

স্থানীয় প্রশাসনের তরফে এরপর ছেলেটিকে এমন এক বাড়িতে পাঠানো হয় যেখানে নয়জন বাচ্চা আছে৷ স্বাভাবিকভাবেই কেউ সেভাবে তার যত্ন নিত না। অযত্নে ভালবাসার অভাব বোধ করে ছেলেটি একদিন নিখোঁজ হয়ে যায়৷ এমন সময় তাঁর বাবাকে জেলে পাঠানো হয়৷ মা পুনর্বিবাহ করেন। 

দশম শ্রেণিতে পড়ার সময় থেকেই নিজের খরচ চালানোর জন্য উপার্জন করা শুরু করে ছেলেটি। এভাবেই চলছিল জীবন৷ 

সমাজমাধ্যমে বহু হারিয়ে যাওয়া পরিবারের পুনর্মিলনের গল্প শুনে ঝাং সিদ্ধান্ত নেয় 'বেবি রিটার্নিং হোম' নামক সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করার৷ সেই সংস্থা কানাডার এক গবেষককে এই কাজে সাহায্য করার জন্য নিযুক্ত করে৷  এরপর চিনের এক ল্যাবেরটরিতে ঝাং ইউনপেং এর ডিএনএ পরীক্ষা করা হয়।

ডিএনএ টেস্ট করার কিছুদিনের মধ্যেই ছেলেটি তার বাবাকে খুঁজে পায়৷ বাবা ছেলের ছবি দেখেই চিনতে পারে৷ ছেলেকে ফিরে পাওয়ার আনন্দে ১৪০০ ডলার পুরস্কারও দেয় বাবা৷