সকালের ব্যস্ত রাস্তায় একটি দৃশ্যে থমকে দাঁড়িয়ে পড়েন পথচারীরা৷ একজন মহিলা অটোরিক্সা চালাচ্ছেন, তাঁর ডান পাশে বসে বছর তিনেকের এক মেয়ে৷
ইনডিয়া কালচারাল হাব নামের ইনস্টাগ্রাম প্রোফাইল থেকে শেয়ার হওয়া ভিডিওটি ইতিমধ্যেই ভাইরাল। একজন মা তাঁর সন্তানকে লালন পালন করতে তাঁর সর্বস্ব দিয়ে চেষ্টা করছেন।
মহিলার নাম কোমল গাইকোয়াড। সকাল ৬.৩০ টা বাজলেই তাঁর জীবনযুদ্ধের চাকা এসে দাঁড়ায় ব্যস্ত যানজটের মাঝে।
কোমল নিজের জন্য একটা ছোট্ট বসার জায়গা বানিয়েছেন কাঠ দিয়ে৷ যাতে তাঁর ছোট্ট মেয়েটি একটু ভাল করে বসতে পারে অটোতে৷
বসার জন্য এই ব্যবস্থাই কোমলের জীবনযুদ্ধের অন্যতম অস্ত্র৷ এভাবেই সে অভিভাবকের দায়িত্ব মাতৃত্ব এবং পেশাদার হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন।
পড়াশোনা করার ইচ্ছা ছিল কোমলের৷ পার্বণীতে থাকা ছোট্ট মেয়েটির চোখে ছিল বড় হওয়ার স্বপ্ন। কিন্তু দশম শ্রেণিতেই পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যায় আর্থিক অনটনের কারণে।
২০১৮ সালে কোমলের বিয়ে হয় এক অটোচালকের সঙ্গে। কিন্তু বিয়ের কিছুদিন পর বর ছেড়ে চলে যায় কোমলকে৷ একরত্তিকে নিয়ে বেঁচে থাকার লড়াই শুরু হয় কোমলের৷
সিকিউরিটি গার্ডের চাকরি নেয় কোমল। কিন্তু এই চাকরি করে মেয়ের দেখভাল করতে পারছিলেন না কোমল৷
কোমলের এমন এক চাকরির দরকার ছিল যা তাঁকে আর্থিক ভাবে গ্রাসাচ্ছদনের জন্য সাহায্য করবে সেই সঙ্গে মেয়ের দেখাশোনা করার সুযোগও দেবে৷ এই কারণেই কোমল অটো চালানো শুরু করেন৷
দিনে ৪০০-৫০০ টাকা আয় করেন কোমল৷ মাসিক কিস্তিতে ঋণ নিয়ে নিজের অটোও কিনেছেন কোমল।
এখন তাঁর লক্ষ্য মেয়েকে ভাল ইংরাজি মাধ্যম স্কুলে পড়ানো৷ মেয়েকে আধুনিক সমাজের যোগ্য হিসাবে গড়ে তোলাই মা হিসাবে কোমলের একমাত্র লক্ষ্য।
মহারাষ্ট্রের ব্যস্ত রাস্তায় এমনই দৃশ্য দেখে মায়ের লড়িকে কুর্নিশ জানাচ্ছেন পথচারীরা৷ যদিও ইন্ডিয়ান কালচারাল হাব ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট থেকে শেয়ার করা এই ভিডিওর সত্যতা যাচাই করেনি আজকাল ডট ইন।















