বর্তমান সময়ে মোবাইল ফোন ও ল্যাপটপ ছাড়া দৈনন্দিন জীবন প্রায় কল্পনাই করা যায় না। অফিসের কাজ, অনলাইন ক্লাস, সমাজমাধ্যমে যোগাযোগ সহ সবকিছুর জন্যই দীর্ঘ সময় স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকতে হচ্ছে। আর অল্প বয়স থেকেই এই অতিরিক্ত স্ক্রিন ব্যবহার নতুন এক সমস্যার জন্ম দিচ্ছে। চিকিৎসকদের মতে, এর ফলে দ্রুত বাড়ছে গলার ব্যথা, ঘাড় শক্ত হয়ে যাওয়া, চোখে জ্বালা, চোখ ভার লাগা ও মাথাব্যথার মতো সমস্যা।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সমস্যাগুলো হঠাৎ করে হয় না। প্রতিদিনের কিছু ভুল অভ্যাস ধীরে ধীরে শরীরের ওপর চাপ সৃষ্টি করে। তবে সময় থাকতে সতর্ক হলে এবং কয়েকটি অভ্যাস বদলালে এই সমস্যা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।
• ভুল ভঙ্গিতে বসে স্ক্রিন দেখাই সবচেয়ে বড় কারণ। চিকিৎসকদের মতে, বেশিরভাগ মানুষ মোবাইল বা ল্যাপটপ ব্যবহার করার সময় মাথা নিচু করে বসে থাকেন। এতে ঘাড়ের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে এবং ‘টেক নেক’ নামে পরিচিত সমস্যা দেখা দেয়। দীর্ঘদিন এমন হলে ঘাড়ে ক্রনিক ব্যথা, পেশি শক্ত হয়ে যাওয়া এমনকী সার্ভাইকাল সমস্যাও হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ল্যাপটপ বা কম্পিউটারের স্ক্রিন এমন উচ্চতায় রাখা উচিত যাতে সেটি চোখের সমান থাকে। বসার সময় পিঠ সোজা রাখা এবং কাঁধ ঢিলে না ফেলার দিকেও নজর দেওয়া জরুরি।
• একটানা স্ক্রিনে তাকিয়ে থাকলে বাড়ে চোখের সমস্যা। শুধু ঘাড় নয়, দীর্ঘক্ষণ স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকলে চোখের ওপরও মারাত্মক চাপ পড়ে। এর ফলে চোখ শুকিয়ে যাওয়া, জ্বালা, ঝাপসা দেখা ও মাথাব্যথার সমস্যা বাড়ে। চিকিৎসকরা এক্ষেত্রে ২০–২০–২০ নিয়ম মেনে চলার পরামর্শ দিচ্ছেন। অর্থাৎ, প্রতি ২০ মিনিট পর স্ক্রিন থেকে চোখ সরিয়ে অন্তত ২০ সেকেন্ডের জন্য ২০ ফুট দূরের কোনও জিনিসের দিকে তাকাতে হবে। এতে চোখের পেশি বিশ্রাম পায়।
• স্ক্রিনের দূরত্ব ও ব্যবহার সময় কমানো জরুরি। অনেকেই মোবাইল খুব কাছে ধরে ব্যবহার করেন বা টানা ঘণ্টার পর ঘণ্টা ল্যাপটপে কাজ করেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, ফোন বা ল্যাপটপ চোখ থেকে অন্তত এক বাহু দূরত্বে রাখা উচিত। পাশাপাশি রাতে ঘুমানোর আগে স্ক্রিন ব্যবহার কমালে চোখ ও মস্তিষ্ক দুটোই বিশ্রাম পায়।
কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন? যদি ঘাড়ের ব্যথা দীর্ঘদিন না কমে, চোখে তীব্র জ্বালা শুরু হয় বা নিয়মিত মাথাব্যথা হতে থাকে, তাহলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
বর্তমানে যুগে মোবাইল ও ল্যাপটপ ব্যবহার এড়ানো সম্ভব না হলেও সঠিক ভঙ্গি, নিয়মিত বিরতি এবং সচেতনভাবে ব্যবহার করলেই ঘাড় ও চোখের ব্যথা সমস্যা কমানো যায়। ভবিষ্যতে বড় সমস্যার হাত থেকে বাঁচতে আজ থেকে অভ্যাস বদলান।
