বয়স বাড়া কি থামানো বা উল্টে দেওয়া সম্ভব? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই নতুন করে শুরু হয়েছে এক গুরুত্বপূর্ণ মানব-পরীক্ষা। গবেষকরা ‘সেল রিজুভেনেশন’ বা কোষকে আবার তরুণ করে তোলার প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছেন। এই গবেষণা যেমন নতুন আশার দরজা খুলছে, তেমনই উঠছে নিরাপত্তা ও নৈতিকতা নিয়ে একাধিক প্রশ্ন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মানুষের শরীরের কোষ সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ক্ষয় হতে থাকে। এই ক্ষয়ের ফলেই বয়সের ছাপ দেখা যায়। ত্বক ঢিলে হয়ে যাওয়া, এনার্জি কমে যাওয়া এবং বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি বৃদ্ধি। নতুন এই পরীক্ষার লক্ষ্য হল, কোষগুলিকে এমনভাবে পরিবর্তন করা যাতে তারা আবার আগের মতো সক্রিয় ও তরুণ হয়ে ওঠে।
গবেষণায় এমন কিছু পদ্ধতি ব্যবহার করা হচ্ছে, যা কোষের কার্যপ্রণালীকে 'রিসেট' করতে পারে। সহজভাবে বললে, পুরনো কোষকে নতুনের মতো কাজ করতে সাহায্য করা। যদি এই প্রযুক্তি সফল হয়, তাহলে ভবিষ্যতে শুধু বয়স কম দেখানোই নয়, বরং বয়সজনিত নানা রোগের চিকিৎসায় বড় পরিবর্তন আসতে পারে।
তবে চিকিৎসকদের একাংশ সতর্ক করে বলছেন, এই ধরনের হস্তক্ষেপ ঝুঁকিপূর্ণও হতে পারে। কোষের স্বাভাবিক গঠন ও কাজের ধরন বদলে গেলে তা অনিয়ন্ত্রিতভাবে বৃদ্ধি পেতে পারে, যা ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। তাই এই প্রযুক্তি কতটা নিরাপদ, তা জানতে আরও দীর্ঘমেয়াদি গবেষণা প্রয়োজন।
এছাড়াও, এই চিকিৎসা যদি সফল হয়, তাহলে তা কি সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে থাকবে, নাকি খুব ব্যয়বহুল হয়ে সীমিত মানুষের মধ্যেই আটকে যাবে—এই নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে।
সবমিলিয়ে, ‘সেল রিজুভেনেশন’ নিয়ে এই মানব-পরীক্ষা বিজ্ঞান জগতে এক বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে এখনই নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না, এটি সত্যিই বয়স কমাতে পারবে কিনা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ফলাফল না আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করাই শ্রেয়।















