শীত পড়লেই অনেক বাড়িতে সারাক্ষণ রুম হিটার চালানো হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, হিটার বেশি ব্যবহার করলে যেমন বিদ্যুৎ বিল বেড়ে যায়, তেমনই ত্বক শুকিয়ে যাওয়া, শ্বাসকষ্ট বা মাথা ঘোরার মতো সমস্যাও দেখা দিতে পারে। তাই শীতে হিটার নির্ভরতা কমিয়ে ঘর উষ্ণ রাখার বিকল্প উপায় খোঁজা জরুরি। এই জায়গায় বড় ভূমিকা নিতে পারে কার্পেট এবং ঘরের সঠিক সাজসজ্জা।

শীতকালে ঘর বেশি ঠান্ডা লাগার অন্যতম কারণ হল মেঝে। ঠান্ডা মেঝে ঘরের তাপ দ্রুত শুষে নেয়। মেঝের উপর কার্পেট পেতে দিলে তা এক ধরনের প্রাকৃতিক ইনসুলেশনের কাজ করে। এর ফলে মেঝে থেকে ঠান্ডা উপরে উঠতে পারে না এবং ঘরের উষ্ণতা অনেকক্ষণ ধরে বজায় থাকে।

শীতের জন্য সবচেয়ে কার্যকর হল উলের রাগ বা মোটা ফাইবারের কার্পেট। এগুলোর ভিতরে বাতাস আটকে থাকে, যা তাপ ধরে রাখতে সাহায্য করে। শ্যাগি কার্পেট বা মোটা রাগ পায়ের নিচে আরাম দেয় এবং ঘরের তাপমাত্রাও তুলনামূলকভাবে বেশি থাকে। কম বাজেটের ক্ষেত্রে সিন্থেটিক কার্পেটও ভাল বিকল্প, যা সহজেই বাজারে পাওয়া যায়।

রাগ বা কার্পেট কোথায় রাখা হচ্ছে, সেটাও গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিছানার পাশে, সোফার সামনে, দরজার কাছে বা বসার জায়গায় কার্পেট পেতে দিলে ঠান্ডা অনেকটাই কম লাগে। কার্পেটের নিচে রাগ প্যাড ব্যবহার করলে তাপ আরও ভালভাবে ধরে রাখা যায়।

শুধু মেঝে নয়, শীতে ঘর উষ্ণ রাখতে পর্দা ও আসবাবের সাজও বড় ভূমিকা নেয়। জানালায় মোটা কাপড়ের পর্দা দিলে ঠান্ডা হাওয়া ভিতরে ঢুকতে বাধা পায়। সোফা বা চেয়ারে কুশন, কম্বল ব্যবহার করলে ঘরের পরিবেশ আরও গরম ও আরামদায়ক হয়ে ওঠে।

রঙের ক্ষেত্রেও কিছুটা কৌশল কাজে আসে। বাদামি, বেইজ, গাঢ় লাল বা মেরুনের মতো গরম রঙের কার্পেট ও পর্দা ঘরের লুক যেমন বদলে দেয়, তেমনই এতে মানসিকভাবেও ঠান্ডা কম অনুভূত হয়।

সব মিলিয়ে বিশেষজ্ঞদের মত, শীতকালে সারাক্ষণ হিটার চালানোর বদলে রাগ-কার্পেট ও স্মার্ট উপায়ে ঘর সাজানোর মাধ্যমে ঘর উষ্ণ রাখা অনেক বেশি স্বাস্থ্যকর, নিরাপদ এবং খরচ সাশ্রয়ী। একটু পরিকল্পনা করলেই শীতের দিনগুলো হতে পারে আরও আরামদায়ক।