শীতে মুখে ব্রণর পর তৈরি হওয়া গর্ত বা দাগ অনেকের কাছেই বড় সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এগুলি শুধু মুখের সৌন্দর্যই কমায় না, আত্মবিশ্বাসের উপরও প্রভাব ফেলে। তবে সঠিক যত্ন, ঘরোয়া উপায় এবং সময়মতো চিকিৎসার মাধ্যমে এই গর্তগুলি অনেকটাই কমানো বা ভরাট করা সম্ভব। জেনে নেওয়া যাক, মুখের গর্ত কমানোর কিছু সহজ ও কার্যকর উপায়।

দিনে দু’বার হালকা ও মৃদু ক্লিনজার দিয়ে মুখ পরিষ্কার করলেই যথেষ্ট, যাতে ত্বকের রোমছিদ্র বন্ধ না হয়ে যায়। উষ্ণ গরম জল ব্যবহার করুন এবং মুখ খুব বেশি ঘষাঘষি করে ধোবেন না। অতিরিক্ত ক্লিনিং করলে ত্বক শুষ্ক হয়ে যায়, ফলে ত্বক নিজেকে সামঞ্জস্য রাখতে আরও বেশি তেল নিঃসরণ করে। এর ফলে রোমছিদ্র আরও বড় দেখাতে পারে। তাই ত্বককে খুব সাধারণভাবে পরিষ্কার করে তাকে বিশ্রাম দেওয়াই সবচেয়ে ভাল।

সপ্তাহে এক বা দু’বার ক্লে মাস্ক ব্যবহার করলে উপকার পাওয়া যায়। এটি ত্বকের অতিরিক্ত তেল দূর করতে এবং রোমছিদ্রে জমে থাকা ময়লা পরিষ্কার করতে সাহায্য করে। তবে প্রতিদিন ক্লে মাস্ক ব্যবহার করলে ত্বক অতিরিক্ত শুষ্ক হয়ে যেতে পারে, তাই সীমিত পরিমাণেই ব্যবহার করা উচিত।

ত্বক যখন শুষ্ক হয়ে যায়, তখন তা স্বাভাবিক ভারসাম্য বজায় রাখতে বেশি তেল তৈরি করতে শুরু করে। এই অবস্থায় একটি ভাল ময়েশ্চারাইজার ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতে সাহায্য করে এবং রোমছিদ্র কম চোখে পড়ে। হালকা ও নন-গ্রিসি ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করাই সবচেয়ে উপযুক্ত।
প্রতিদিন এসপিএফ ৩০ বা তার বেশি মাত্রার সানস্ক্রিন ব্যবহার করা অত্যন্ত জরুরি, বিশেষ করে বাইরে রোদে বার হলে। সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মি ত্বকের কোলাজেন নষ্ট করে দেয়, যার ফলে সময়ের সঙ্গে রোমছিদ্র ও গর্ত আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। নিয়মিত সানস্ক্রিন ব্যবহারে ধীরে ধীরে ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা যায়। শীতকালে কুয়াশাচ্ছন্ন আবহাওয়ায় প্রয়োজনে ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করা যেতে পারে।

শীতকালে ত্বকের বাড়তি যত্ন নেওয়াই মুখের ব্রণের গর্ত ও দাগ কমানোর মূল চাবিকাঠি। নিয়মিত পরিষ্কার রাখা, ত্বককে আর্দ্র রাখা, সানস্ক্রিন ব্যবহার এবং প্রয়োজনে ঘরোয়া বা চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা করলে ধীরে ধীরে ত্বকের উন্নতি লক্ষ্য করা যায়। ধৈর্য ধরে নিয়ম মেনে চললে ত্বক আবার আগের মতো মসৃণ ও স্বাস্থ্যোজ্জ্বল হয়ে উঠতে পারে।