বাজারে খাবারের ভেজাল নিয়ে উদ্বেগ নতুন নয়। সেই তালিকায় নতুন করে যোগ হয়েছে নকল বা প্লাস্টিক ডিম। সাম্প্রতিক সময়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় নানা ভিডিও ও পোস্টে দাবি করা হচ্ছে, বাজারে নাকি নকল ডিম বিক্রি হচ্ছে। যার জেরে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্যাপক হারে প্লাস্টিক ডিম বিক্রির নির্ভরযোগ্য প্রমাণ খুব কম। তবুও সাধারণ মানুষের স্বস্তির জন্য ডিম না ভেঙেই আসল-নকল চেনার কয়েকটি সহজ উপায় জানা জরুরি।
খাদ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নকল ডিম বলতে এমন কিছুকে বোঝানো হয়, যা প্রাকৃতিকভাবে মুরগি থেকে পাওয়া নয় এবং দেখতে আসল ডিমের মতো বানানো। যদিও বাস্তবে এই ধরনের ডিম খুবই বিরল, তবুও সতর্ক থাকলে ঝুঁকি কমে। এক্ষেত্রে না ভেঙেই ডিম পরীক্ষা করবেন যেভাবে, জেনে নিন-
ঝাঁকিয়ে দেখা: ডিমটি কানের কাছে ধরে হালকা করে ঝাঁকান। আসল ও টাকটা ডিমে সাধারণত কোনও শব্দ শোনা যায় না। কিন্তু ভেতরে তরল নড়াচড়ার স্পষ্ট শব্দ এলে তা অস্বাভাবিক হতে পারে।
খোসা স্পর্শ করে দেখুন: আসল ডিমের খোসা সাধারণত একটু খসখসে ও প্রাকৃতিক অনুভূতির হয়। খুব বেশি মসৃণ বা অস্বাভাবিকভাবে চকচকে খোসা থাকলে সতর্ক হওয়া ভাল।
গন্ধ পরীক্ষা: ডিমের কাছে নাক নিলে তীব্র কোনও গন্ধ থাকা উচিত নয়। রাসায়নিক বা অদ্ভুত গন্ধ পেলে সেই ডিম ব্যবহার না করাই নিরাপদ।
জলে ডুবিয়ে দেখা: একটি পাত্রে জল নিয়ে ডিমটি ফেলুন। তাজা ডিম সাধারণত জলের তলায় গিয়ে শুয়ে থাকে। পুরনো বা খারাপ ডিম ভেসে উঠতে পারে। যদিও এই পরীক্ষা মূলত ডিমের টাটকা-পুরনো বোঝায়, তবুও খুব অস্বাভাবিক মনে হলে সন্দেহ তৈরি করতে পারে।
রং দেখে ডিম নকল বোঝা যায়? অনেকের ধারণা, সাদা বা বাদামি রং দেখে ডিমের মান বোঝা যায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, ডিমের রং মুরগির জাতের ওপর নির্ভর করে। রঙের সঙ্গে ডিম আসল বা নকল হওয়ার সরাসরি সম্পর্ক নেই।
প্লাস্টিক ডিম নিয়ে আতঙ্ক থাকলেও বাস্তবে এর প্রমাণ খুব সীমিত। তবুও সচেতন থাকা উচিত। কয়েকটি সহজ পরীক্ষা জানলে বাজারের ডিম নিয়ে অযথা ভয় না পেয়ে নিশ্চিন্তে ব্যবহার করা সম্ভব। নকল ডিম থেকে বাঁচতে পরিচিত ও বিশ্বাসযোগ্য দোকান থেকে ডিম কিনুন। ফাটা, খুব নোংরা বা দুর্গন্ধযুক্ত ডিম এড়িয়ে চলুন। প্যাকেটজাত ডিমে উৎপাদন ও মেয়াদের তথ্য দেখে নিন। ডিম সব সময় পরিষ্কার ও ঠান্ডা জায়গায় সংরক্ষণ করুন।
