হঠাৎ চাকরি চলে গেলে মানসিক চাপ তৈরি হওয়াই স্বাভাবিক। মনে অজস্র চিন্তা তখন ভিড় করতে থাকে। সংসার চলবে কীভাবে, নতুন কাজ আদৌ পাওয়া যাবে কি না, এমনই প্রশ্ন ধীরে ধীরে রূপ নেয় হতাশায়। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, চাকরি হারানো মানেই সব শেষ নয়। বরং সঠিক পরিকল্পনা করলে দ্রুত পছন্দের নতুন কাজ পাওয়া সম্ভব।

প্রথমেই নিজের মনকে শান্ত রাখা খুব জরুরি। চাকরি চলে যাওয়ার পর অনেকেই যে কোনও কাজের জন্য তাড়াহুড়ো করে আবেদন শুরু করে দেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, আগে একটু সময় নিয়ে ভাবা দরকার, আপনি আসলে কী ধরনের কাজ চান। কোন কাজ করলে আপনি মানসিকভাবে ভাল থাকবেন, কোন পরিবেশে কাজ করতে আপনার স্বাচ্ছন্দ্য- এই প্রশ্নগুলোর উত্তর খুঁজে নেওয়া জরুরি।

এরপর নিজের দক্ষতা ও অভিজ্ঞতার দিকে তাকাতে হবে। আপনি আগে কী কী কাজ করেছেন, কোন জায়গায় ভাল ফল দিয়েছেন, কোন দক্ষতাগুলো আপনাকে অন্যদের থেকে আলাদা করে-সেগুলো লিখে ফেলুন। এতে নিজের উপর বিশ্বাস বাড়ে এবং নতুন কাজ খোঁজার দিকটা পরিষ্কার হয়।

নতুন চাকরি খোঁজার ক্ষেত্রে ছোট ছোট পদক্ষেপ নেওয়া সবচেয়ে কার্যকর। যেমন নিজের জীবনবৃত্তান্ত বা সিভি নতুন করে আপডেট করা, লিঙ্কডিনের প্রোফাইল ঠিক করা, আগের সহকর্মী বা পরিচিতদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা। অনেক সময় পরিচিত সূত্রেই নতুন কাজের সুযোগ আসে।

চাকরি হারালে আত্মবিশ্বাস কমে যাওয়া খুব স্বাভাবিক। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা মনে করিয়ে দেন, চাকরি চলে যাওয়া মানেই আপনি অযোগ্য নন। কোম্পানির সিদ্ধান্ত, বাজার পরিস্থিতি বা নানা কারণে ভাল কর্মীরাও কাজ হারাতে পারেন। তাই নিজের সাফল্যগুলো ভুলে গেলে চলবে না। ইন্টারভিউতে নিজের কাজের উদাহরণ, অর্জন আর অভিজ্ঞতা আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে তুলে ধরতে হবে।

নতুন কাজ বাছার সময় একটি কেরিয়ার তালিকা বানানো ভাল। সেখানে লিখে রাখুন-কী ধরনের কাজ চান, কতটা বেতন দরকার, কোন জায়গায় কাজ করতে ইচ্ছুক, অফিসের পরিবেশ কেমন হলে ভাল লাগবে। এতে অপ্রয়োজনীয় চাকরির পেছনে সময় নষ্ট হবে না এবং সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সুবিধা হবে।

সবমিলিয়ে বিশেষজ্ঞদের মত, চাকরি হারানোকে জীবনের শেষ বলে ভাবার দরকার নেই। বরং নিজেকে নতুন করে গড়ে তোলার সুযোগ হিসেবে দেখলে ভাল ফল মিলতে পারে। ধৈর্য ধরে, পরিকল্পনা করে এগোলে খুব তাড়াতাড়িই এমন একটি নতুন কাজ পাওয়া সম্ভব, যেখানে কাজ করেও মন ভাল থাকবে।