দোলের আগের রাতে ন্যাড়াপোড়া কি শুধুই রীতি? নাকি নেপথ্যে লুকিয়ে ভয়ঙ্কর কাহিনি! ইতিহাস জানলে চমকে যাবেন
নিজস্ব সংবাদদাতা
২ মার্চ ২০২৬ ১৫ : ২০
শেয়ার করুন
1
10
‘আজ আমাদের ন্যাড়াপোড়া, কাল আমাদের দোল…’, রঙের উৎসবের আগে এই ছড়া বাঙালির শৈশবের অঙ্গ। দোল পূর্ণিমার আগের রাতে বাংলায় যে ন্যাড়াপোড়া পালিত হয়, ভারতের অন্যান্য প্রান্তে সেটিই পরিচিত হোলিকা দহন নামে। কোথাও আবার একে চাঁচর পোড়া বলেও ডাকা হয়। ২০২৬ সালে ২ মার্চ পালিত হচ্ছে এই বিশেষ রীতি।
2
10
কিন্তু কেন দোলের আগের রাতে আগুন জ্বালানো হয়? এর নেপথ্যে রয়েছে এক প্রাচীন পৌরাণিক কাহিনি।
3
10
কথিত রয়েছে, প্রাচীনকালে হিরণ্যকশিপু নামে এক অত্যন্ত অহংকারী অসুর রাজা ছিলেন। তিনি নিজেকে ঈশ্বরের সমান বলে দাবি করতেন।
4
10
তপস্যায় সন্তুষ্ট হয়ে সৃষ্টিকর্তা ব্রহ্মা হিরণ্যকশিপুকে এক বিশেষ বর দেন, যাতে তিনি প্রায় অমরত্বের সুরক্ষা পান। এই বর পাওয়ার পর হিরণ্যকশিপুর অত্যাচার আরও বেড়ে যায়।
5
10
অন্যদিকে, তাঁর পুত্র প্রহ্লাদ ছিলেন ভগবান বিষ্ণু-র একনিষ্ঠ ভক্ত। পুত্রের এই ভক্তি কিছুতেই মেনে নিতে পারেননি হিরণ্যকশিপু। তিনি বারবার প্রহ্লাদকে শাস্তি দিতে ও হত্যা করতে চেষ্টা করেন, কিন্তু প্রতিবারই ঈশ্বরের কৃপায় প্রহ্লাদ রক্ষা পেয়ে যান।
6
10
শেষ পর্যন্ত হিরণ্যকশিপু তাঁর বোন হোলিকা-র সাহায্য নেন। হোলিকার কাছে এমন এক অলৌকিক শাল ছিল, যা গায়ে জড়ালে আগুনে পোড়া যেত না।
7
10
পরিকল্পনা করা হয়, হোলিকা সেই শাল জড়িয়ে প্রহ্লাদকে কোলে নিয়ে অগ্নিকুণ্ডে বসবেন। আগুনে প্রহ্লাদ পুড়ে মারা যাবে, আর হোলিকা অক্ষত থাকবেন।
8
10
কিন্তু ঘটল উল্টো। আগুন জ্বালানোর পর অলৌকিকভাবে শালটি উড়ে গিয়ে প্রহ্লাদের গায়ে জড়িয়ে পড়ে। ফলে হোলিকা আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে যান, আর প্রহ্লাদ রক্ষা পান। এই ঘটনার মধ্য দিয়ে অশুভ শক্তির বিনাশ এবং শুভ শক্তির জয় ঘোষণা হয়। তারপর থেকেই দোলের আগের রাতে হোলিকা দহন বা ন্যাড়াপোড়া পালনের প্রথা চালু হয়েছে বলে বিশ্বাস করা হয়।
9
10
শোনা যায়, বর্তমান পাকিস্তানের মুলতান অঞ্চলের প্রহ্লাদপুরী মন্দিরে প্রথম এই রীতির সূচনা হয়েছিল। পরে তা সমগ্র ভারতে ছড়িয়ে পড়ে।
10
10
আজও ন্যাড়াপোড়ার আগুন প্রতীকীভাবে যেন জানিয়ে দেয়, অহংকার ও অশুভ শক্তির পরিণতি ধ্বংস, আর ভক্তি ও সত্যের জয় অনিবার্য। নাম আলাদা হলেও, ন্যাড়াপোড়া বা হোলিকা দহনের মূল বার্তা একটাই- অন্ধকারের শেষে আলো আসবেই।