রঙের উৎসব দোল মানেই প্রিয়জনের সঙ্গে চুটিয়ে আনন্দ। আগামী ৩ মার্চ দোল পূর্ণিমা। চারিদিকে চলছে রঙিন প্রস্ততি। কিন্তু এই আনন্দের মাঝে চোখের প্রতি একটু অসতর্কতা বড় সমস্যার কারণ হতে পারে।
বাজারে যে সব রং পাওয়া যায়, তার মধ্যে বেশিরভাগেই থাকে ক্ষতিকর রাসায়নিক। এইসব রং চোখে গেলে জ্বালা, চুলকানি, লালচে ভাব, জল পড়া এমনকি সংক্রমণও হতে পারে। গুরুতর ক্ষেত্রে কর্নিয়ায় ক্ষত তৈরি হয়ে দৃষ্টিশক্তির ক্ষতিও হতে পারে।
উৎসব উপভোগ করুন, তবে চোখের সুরক্ষায় থাকুন সচেতন। সামান্য সতর্কতাই হোলির আনন্দকে রাখবে নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক।
চিকিৎসকদের কথায়, হোলির সময় সবচেয়ে বেশি দেখা যায় কনজাংটিভাইটিস, অ্যালার্জি ও কর্নিয়ার ক্ষত। বিশেষ করে শিশু ও কন্ট্যাক্ট লেন্স ব্যবহারকারীরা বেশি ঝুঁকিতে থাকেন। রঙের গুঁড়ো বা রং মেশানো জল চোখে ঢুকে গেলে অনেকেই চোখ ঘষতে থাকেন, যা পরিস্থিতি আরও খারাপ করে। সেক্ষেত্রে কয়েকটি টিপস মানলে উপকার পাবেন। যেমন-
* হোলি খেলতে বের হলে অবশ্যই সানগ্লাস বা স্বচ্ছ চশমা ব্যবহার করা উচিত। এতে সরাসরি রং চোখে ঢোকার আশঙ্কা কমে। যাঁরা কন্ট্যাক্ট লেন্স ব্যবহার করেন, তাঁদের ওই দিন লেন্স না পরে সাধারণ চশমা ব্যবহার করাই নিরাপদ।
* চোখে রং ঢুকে গেলে আতঙ্কিত না হয়ে প্রথমেই পরিষ্কার ঠান্ডা জল দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। চোখ একেবারেই ঘষবেন না। এতে কর্নিয়ায় আঁচড় পড়তে পারে। প্রয়োজনে পরিষ্কার পানীয় জল ব্যবহার করা উচিত।
* রং খেলতে যাওয়ার আগে চোখের চারপাশে সামান্য নারকেল তেল বা ময়েশ্চারাইজার লাগিয়ে নেওয়ার পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা। এতে রঙ সহজে বসে না এবং পরে পরিষ্কার করাও সহজ হয়।
* যতটা সম্ভব ভেষজ বা প্রাকৃতিক রং ব্যবহার করার চেষ্টা করুন। কৃত্রিম ও অতিরিক্ত উজ্জ্বল রং এড়িয়ে চলাই ভাল।
* রং মাখা হাত দিয়ে বারবার চোখে হাত দেবেন না। রং খেলার মাঝে মাঝে সাবান দিয়ে হাত ধুয়ে নেওয়া জরুরি।
* হোলির পর যদি চোখে জ্বালা, লালচেভাব, ঝাপসা দেখা বা অতিরিক্ত জল পড়ার সমস্যা দেখা দেয়, তাহলে দেরি না করে চক্ষু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন। নিজের মতো করে ওষুধ বা ড্রপ ব্যবহার করলে ক্ষতি বাড়তে পারে।
