ব্যস্ত জীবনে সবসময় ঘর গুছিয়ে রাখা সম্ভব হয় না। কাজের চাপ, সময়ের অভাব বা অলসতার কারণে বাড়িতে অপ্রয়োজনীয় জিনিস জমতে থাকে। ফলে অগোছালো হয়ে যায় ঘর এবং অনেক সময় মানসিক চাপও বাড়ে। এই সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে বিশেষজ্ঞরা একটি সহজ পদ্ধতির কথা বলছেন। যা হল ১২-১২-১২ পদ্ধতি।

১২-১২-১২ পদ্ধতি আসলে ঘর গুছিয়ে রাখার একটি খুব সহজ নিয়ম। এই পদ্ধতিতে প্রতিদিন মাত্র কয়েক মিনিট সময় দিয়ে বাড়ির জিনিসপত্র একটু একটু করে গুছিয়ে নেওয়া হয়। নিয়মটি খুবই সরল। 

প্রতিদিন ১২টি জিনিস ফেলে দিতে হবে, ১২টি জিনিস দান করতে হবে এবং ১২টি জিনিস সঠিক জায়গায় রাখতে হবে।

প্রথমে এমন ১২টি জিনিস বেছে নিন যেগুলো একেবারে নষ্ট, ভাঙা বা আপনার আর কোনও কাজে লাগে না। সেগুলো ফেলে দিন। এতে অপ্রয়োজনীয় জিনিস জমে থাকার সমস্যা কমবে।

এরপর আরও ১২টি জিনিস বেছে নিন যেগুলো এখনও ব্যবহারযোগ্য, কিন্তু আপনার আর প্রয়োজন নেই। যেমন পুরনো জামাকাপড়, বই, খেলনা বা কিছু গৃহস্থালির জিনিস। এগুলো দরিদ্র মানুষকে বা কোনও সংস্থাকে দান করা যেতে পারে। এতে অন্যের উপকারও হবে।

শেষে ১২টি জিনিস খুঁজে বের করুন যেগুলো ঠিক জায়গায় নেই। যেমন টেবিলে পড়ে থাকা বই, সোফায় রাখা জামা, রান্নাঘরের এদিক-ওদিক থাকা বাসন। এগুলো তাদের নির্দিষ্ট জায়গায় রেখে দিন।

এইভাবে প্রতিদিন মোট ৩৬টি জিনিস নিয়ে ছোট ছোট সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। শুনতে কম মনে হলেও কয়েকদিন এই নিয়ম মেনে চললে ঘরের অপ্রয়োজনীয় জিনিস অনেকটাই কমে যায় এবং বাড়ি অনেক বেশি পরিষ্কার ও গোছানো লাগে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পদ্ধতির সবচেয়ে বড় সুবিধা হল এটি খুব সহজ এবং চাপমুক্ত। একদিনে পুরো ঘর পরিষ্কার করার দরকার নেই। অল্প অল্প করে কাজ করলে তা সহজ মনে হয় এবং অভ্যাস হয়ে যায়।

এছাড়া ঘর পরিষ্কার ও গোছানো থাকলে মনও অনেক হালকা লাগে। অগোছালো পরিবেশ অনেক সময় উদ্বেগ ও মানসিক চাপ বাড়ায়। তাই নিয়মিত ১২-১২-১২ পদ্ধতি মেনে চললে ঘর যেমন পরিষ্কার থাকে, তেমনই মনোযোগ ও কাজের মানও বাড়তে পারে।

সহজ এই ছোট অভ্যাসটি যদি প্রতিদিন করা যায়, তাহলে ধীরে ধীরে বাড়ি হয়ে উঠবে অনেক বেশি পরিপাটি, আর জীবনও হবে একটু বেশি স্বস্তির।